Wednesday , 1 March 2023 | [bangla_date]

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলে পাঠদান

মিজানুর রহমান, হরিপুর(ঠাকুরগাঁও)৷৷
ভাঙা ছাদ থেকে প্রায়ই পলেস্তারা খসে পড়ছে। ছাদের পলেস্তারা পড়ে গিয়ে রড বেরিয়ে গেছে। বৃষ্টি এলেই ছাদ চুইয়ে পড়ছে পানি। এ ছাড়া কক্ষের দেয়াল, ছাদ, পিলার ও বিমে ধরেছে ফাটল। শ্রেণিকক্ষের মেঝে দেবে গেছে অনেকাংশে।

এমন ঝুঁকির মধ্যেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বকুয়া ইউনিয়নের ধুকুরিয়া-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকেরা। বিদ্যালয়টির এমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় অভিভাবকেরা তাঁদের কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন। এদিকে বিদ্যালয়টির একমাত্র ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

আজ বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির জরাজীর্ণ চার কক্ষের ভবনের একটি তালাবদ্ধ, একটিতে বিদ্যালয়ের কার্যালয় আর দুটিতে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ভাঙা ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে আছে। বৃষ্টি এলেই পড়ে পানি। কক্ষের দেয়াল, ছাদ, পিলার ও বিমে ফাটল ধরেছে। অনেক জায়গায় শ্রেণিকক্ষের মেঝে দেবে গেছে। এ অবস্থায় জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় শতাধিক কোমলমতি শিশু পাঠ গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ধুকুরিয়া-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৯৪ সালে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। সেই থেকে এ ভবনের তিনটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও একটি কক্ষ বিদ্যালয়ের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের অনেক জায়গায় দেয়াল, পিলার ও বিমে ফাটল। দেবে গেছে মেঝে এবং খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে চারজন শিক্ষক পড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী মুজাহিদ ও চতুর্থ শ্রেণীর শাকিলা বলে, ভাঙা কক্ষে পড়তে তাদের অনেক ভয় লাগে। এমনকি পড়া চলাকালে প্রায়ই ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে।

তৈয়ব আলী নামে একজন অভিভাবক বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাঁরা শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন। যে কারণে অনেকে তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে দ্বিধাবোধ করেন। কর্তৃপক্ষের দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাকিম বলেন, বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি এমন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এ নিয়ে তাঁরা উদ্বেগ–উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। বিকল্প দুটি টিনসেল ঘর তৈরি করা হয়েছে। এতে সংকুলান না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনে শিশুদের পড়াতে হচ্ছে। এতে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। ভবনের বর্তমান অবস্থা ও ৩৩ শতাংশ জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের চাহিদা জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোতে একাধিকবার চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধি রেজাউল হক জানান, ভবন আসলেই ঝুঁকিপূর্ণ যেকোন মূহুর্তে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করে ব‍্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইসাহাক আলী জানান, এক বছর পূর্বে আমি সভাপতি হয়েছি, শুনেছি প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে জানালেও কোনো প্রতিকার হয়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আজিজার রহমান জানান, ঝুঁকি পূর্ণ শ্রেণী কক্ষে পাঠদান নিষেধ করা হয়েছে। এ ব‍্যাপারে চলমান প্রক্রিয়া রয়েছে। আশা করছি অচিরেই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।

সর্বশেষ - ঠাকুরগাঁও

আপনার জন্য নির্বাচিত

বীরগঞ্জে তীব্র তাপদাহে শ্রমজীবীদের তৃষ্ণা মেটাতে অন্যন্য উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত

ঠাকুরগাঁওয়ে সাবেক ২ এমপি সহ ৭৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

তেঁতুলিয়ায় ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে সার বীজ বিতরণ

পঞ্চগড় আটোয়ারীতে কাঞ্চনজঙ্ঘা হেল্পিং ফান্ডের ঈদের উপহার এবং ফলজ গাছ বিতরণ

দিনাজপুরে দুইদিনব্যাপী বার্ষিক কমিউনিটি  পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা

দিনাজপুরে দুইদিনব্যাপী বার্ষিক কমিউনিটি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা

সমতলে চা বাগান করে সাবলম্বি বোচাগঞ্জের ফজলে মুকিম

পীরগঞ্জে আইন-শৃংখলা কমটিরি সভা অনুষ্ঠতি

টিসিবির পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারকে শোকজ

বীরগঞ্জে ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢেপা নদীর খনন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি গোপাল