Saturday , 28 October 2023 | [bangla_date]

বিরলে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী পাপেট শো বা পুতুল নাচ

বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ঃ দিনাজপুরের বিরলে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী পাপেট শো বা পুতুল নাচ। লোকনাট্য ধারা এই পুতুল নাচ থেকে মানুষ এক সময় বিনোদনসহ বিভিন্ন প্রকার শিক্ষা গ্রহন করতো। গ্রামীণ মেলা বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নানা পৌরাণিক কাহিনী ও পালা মঞ্চায়নের মাধ্যমে মাতিয়ে রাখতো এই পুতুল নাচ। দর্শক শ্রোতার ভিড়ে গল্প, কবিতা,নাটক, অভিনয়, নাচ,গান, ভাস্কর্য এবং অন্যান্য সার্থক মিলন ঘটতো এই পুতুল নাচে। এই পুতুল নাচ আর এখন তেমন চোখে পড়ে না। সম্প্রতি শারদীয় দুর্গা পুজা উপলক্ষে বিলুপ্ত প্রায় এই পুতুল নাচ দিয়ে বিনোদনের ব্যবস্থা করে উপজেলার আজিমপুর ইউপি’র সিঙ্গুল মাঝাপাড়া গ্রামের দুর্গা পুজার আয়োজক কমিটি। এব্যাপারে কথা হয় আয়োজক কমিটির সভাপতি সুবাশ দাসের সাথে। তিনি জানান, বর্তমান সময়ে আমরা পুর্বের এই পুতুল নাচের মাধ্যমে দর্শক শ্রোতাদের রুচির পরিবর্তন ঘটানোর চেষ্টা করেছি। ষষ্ঠী থেকে শুরু করে বিজয়া দশমী পর্যন্ত ৫দিন ব্যাপী এই পুতুল নাচের আয়োজন করা হয়েছিলো। এই পুতুল নাচের মাধ্যমে পুষ্পমালা-কাঞ্চনকুমার, বেদের মেয়ে জ্যো¯œা, যৌতুকের বলি ময়না, মানুষ কেন অমানুষ, মুধুমালা-মদনকুমার, আমি জেল থেকে বলছিসহ নিমাই সন্যাস নাটক মঞ্চায়িত হয়েছে। এই পুুতুল নাচ বিশেষ করে নতুন প্রজন্মসহ মহিলা দর্শকদের মনে দারুণভাবে সাড়া ফেলেছে। সরকারসহ রুচিশীল মানুষদের চেষ্টায় বিলুপ্ত প্রায় এই পুতুল নাচকে এখনো রক্ষা করা সম্ভব। এসময় আপন চায়না পুতুল নাচের কন্ঠশিল্পি প্রদীব রায়ের সাথে কথা হলে তিনি জানান, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ন ভিডিও বিনোদনের সহজ লভ্যতার কারণে সুষ্ঠু ধারার বিনোদন ঐতিহ্যবাহী এই পুতুল নাচের কদর কমতে কমতে আজ শেষ অবস্থায় চলে এসেছে। এক সময় এই পুতুল নাচ ছিলো বিনোদনের মধ্যে একটি অন্যতম মাধ্যম। এখন এই পুতুল নাচ নিয়ে মানুষ সেভাবে আর ভাবে না। ফলে অনেকে এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছে। যদিও বছরে দুই এক দিন কারও আগ্রহ বা অনুপ্রেরণায় এই পুতুল নাচ হয়। আয়োজকগণ পুতুল নাচের জন্য আমাদের যে অর্থ দেয় তা দিয়ে আমাদের সংসার চলেনা। আমরা সব সময় অভাব অনাটনের মধ্যেই থাকি। নৃত্যশিল্পি নুর জামাল জানান, আমাদের এমন করুণ অবস্থা দেখে আমাদের নতুন প্রজন্মের এই কাজ শেখার কোন আগ্রহ নেই। শিল্পকলা একাডেমিসহ দেশের সরকার বাহাদুরের কাছে আমার আকুল আবেদন, বছরের অন্তত্য ৮০ দিন পুতুল নাচের মাধ্যমে কাজে লাগিয়ে আমাদের রক্ষা করুন। তাহলে একদিকে যেমন আমরা বাঁচবো। অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পটিও বেঁচে থাকবে। এব্যাপারে আপনা চায়না পুতুল নাচের স্বত্বধিকারী কুদ্দুস বৈদেশীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, নতুনরা এ কাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও পুরতানদের সাথে নিয়ে নানা সদস্যা ও প্রতিকুলাতার মাঝে এই ঐতিহ্যবাহী পাপেট শো বা পুতুল নাচটিকে টিকিয়ে রাখতে মনে প্রাণে চেষ্টা করে চলছি। জানিনা আর কতদিন ধরে রাখতে পারবো। সরকারের পরিকল্পিত টেকসই সিদ্ধান্ত ও পৃষ্টোপোষকতা পেলে নতুনদের একাজে অংশ গ্রহনের পাশা-পাশি এশিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।

সর্বশেষ - ঠাকুরগাঁও

আপনার জন্য নির্বাচিত

বীরগঞ্জে জাল নোটসহ ডলার প্রতারক চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার

দিনাজপুর জোনাল ও বিরামপুরে সেটেলমেন্ট অফিসে দুদকের অভিযান

হাবিপ্রবির ১০তলা বিল্ডিং-র লিফট নিয়ে তুলকালাম

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভার্স্কয ভাংচুর রাণীশংকৈল ছাত্রলীগের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ

বীরগঞ্জে জরাজীর্ণ বসতবাড়িতে ছকিনার জীবনযুদ্ধ প্লাস্টিকের নিচেই কাটে রাত

মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি খিজির আহমদ চৌধুরী কান্তজিউ মন্দির পরিদর্শনে

শিশু একাডেমীর উদ্যোগে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদন্নবী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও মিলাদ মাহফিল

আ.লীগের পতন শুরু হয়ে গেছে: ফখরুল

আবারো ভারতীয় ভিসা বন্ধ বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি রুটে হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে

বীরগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত