রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ
রাণীশংকৈল মহিলা ডিগ্রি কলেজের কমিটি গঠনে অধ্যক্ষ মহাদেব বসাকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক ডিগ্রি পর্যায়ের কলেজে বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর (মাষ্টার্স) পাশ নির্ধারিত থাকলেও অধ্যক্ষ মহাদেব বসাক জালিয়াতির মাধ্যমে এইচএসসি পাশ মোঃ মাহমুদুন্নবী পান্না বিশ্বাসকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করেন। জনাব পান্না বিশ্বাস রাণীশংকৈল উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং গত ২০২১ সালের রাণীশংকৈল পৌরসভা নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ছিলেন। তিনি নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামায় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাশ উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য যে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গত ১১/০৩/২০২৫খ্রি. তারিখে বিদ্যোৎসাহী সদস্যের যোগ্যতা স্নাতকোত্তর নির্ধারণ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারী করে।
রাণীশংকৈল উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মখলেসুর রহমান বকুল মজুমদারকে অভিভাবক সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছেন। অথচ, তার কোন কন্যা সন্তান অত্র কলেজে অধ্যয়নরত নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্ণিং বডি গঠনের বিধির ৪নং ধারার ‘খ’ এর (রর) উপধারা অনুযায়ী পিতা/মাতা ছাড়া অন্য কারো অভিভাবক সদস্য হবার সুযোগ নেই। বিধি অনুযায়ী অত্র কলেজে অধ্যয়নরত কোন শিক্ষার্থীর অভিভাবক হিসেবে মনোনীত হওয়ারও তার সুযোগ নেই। অধ্যক্ষ মহাদেব বসাক জালিয়াতির মাধ্যমে তাকে ভূয়া অভিভাবক সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছেন।
রাণীশংকৈল উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ শাহাদাত হোসেন গভর্ণিং বডির হিতৈষী সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, হিতৈষী সদস্য মনোনীত করার ক্ষেত্রেও প্রক্রিয়াটি ত্রুটিপূর্ণ ও ভূয়া।
কয়েকজন শিক্ষকের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান অধ্যক্ষ মহাদেব বসাক কলেজে অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য করে বিপুল পরিমাণে অর্থ আয় করেছেন এবং আরো কিছু নিয়োগ বাণিজ্য করার জন্য নিজের মনমতো কমিটি তিনি গঠন করেছেন। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের রাণীশংকৈল পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক। ২৪-এর ছাত্র জনতার গণঅভ্যূত্থানের অর্জনকে বিলিন করার লক্ষ্যে এবং বর্তমান অন্তর্বতরতী কালীন সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য ৫ই আগষ্টের পর রাণীশংকৈলের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে তিনি বিভিন্ন অপতৎপরতা চালিয়েছেন।
রাণীশংকৈল-হরিপুর সীমান্তে হিন্দুদেরকে একত্রিত করে নাটক সাজিয়েছিলেন। রাণীশংকৈল উপজেলা সদরে হিন্দুদের নিয়ে বেশ কয়েকটি বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল ইত্যাদিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অধ্যক্ষ মহাদেব বসাক তার আওয়ামী তকমা মোচন করার জন্য এবং জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী অপকর্ম হতে রক্ষার জন্য জালজালিয়াতি ও ভূয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে তিনি বিএনপি নেতৃবৃন্দকে কমিটিতে অন্তরভুক্ত করেছেন। শিক্ষকগণ এই অবৈধ কমিটি বাতিলসহ অধ্যক্ষের এই অপকর্মের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।
এ বিষয়ে,মহিল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মহাদেব বসাক বলেন,হম অভিযোগ হয়েছে আমি দেখেছি। আমাদের এটা ভুল হয়েছে, আচ্ছা সন্ধ্যায় দেখা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা মুঠো ফোনে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।