রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ জাতীয় দলের নারী ফুটবলার সাগরিকার বাড়িতে তালা ভেঙে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা চুরির ঘটনায় ২১ আগষ্ট বৃহস্পতিবার তদন্তে নেমেছে স্বয়ং থানা অফিসার ইনচার্জ আরশেদুল হক। তিনি সাগরিকার মা,বাবাসহ এলাকার বিভিন্ন মানুষের মুখে জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করছেন, এবং তার পরিবারের কেউ অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখছেন।
জানা যায়, ১৪ আগস্ট রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার রাঙ্গাটুঙ্গি গ্রামে জাতীয় দলের নারী ফুটবলার সাগরিকার বাড়িতে ঘরের ডয়ার থেকে ২লক্ষ ২৫ হাজার টাকা চুরি হয়। এ ঘটনায় সাগরিকার বাবা লিটন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা একটি অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগটি এজাহার হিসাবে গন্য করে তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বয়ং ওসি নিজেই হয়েছেন। স্বরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তৎকালিন উপজেলা নির্বাহি অফিসার রকিবুল হাসান সরকারি অর্থায়নে নির্মিত করে দেন ২টি পাঁকা ঘর আর সে ঘরে থাকেন সাগরিকা। তার পাশে মাটির আরেকটি ঘর আছে তাদের। সাগরিকা বাড়িতে না থাকলে মাটির ঘরে থাকেন সাগরিকার বাবা-মা। ঘটনার দিন সাগরিকা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এ কারণে পাকা ঘরে তালা দিয়ে মাটির ঘরে ছিলেন সাগরিকার বাবা-মা। ১৪ আগস্ট রাতে পাকা ঘরের ঢুকে সাগরিকার জমানো ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
সাগরিকার বাবা লিটন বলেন, সাগরিকার জমানো ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা বাড়ির পাশে এক প্রতিবেশী ধার নিয়েছিলেন। বেশ কয়েকদিন পরে ১৪ আগস্ট টাকা ফেরত দেয় ওই প্রতিবেশী। টাকা ফেরত দেওয়ার রাতেই ঘরে প্রবেশ করে সেই টাকা চুরি হয়েছে। এতদিন টাকা বাড়িতে ছিল না, চোরও আসেনি। টাকা ফেরত দেওয়ার রাতেই চুরি হলো। যা রহস্যজনক মনে হচ্ছে। থানায় অভিযোগ দিয়েছি পুলিশ তদন্ত করছে। আমার মেয়ের পরিশ্রমের টাকা এভাবে চুরি হবে ভাবতেও পারিনি। আমার বাড়ি থেকে শুধু টাকা নয় বরং পরিবারের উজ্জ্বল স্বপ্ন চুরি হয়েছে মনে হচ্ছে। প্্রসঙ্গে জাতীয় দলের নারী ফুটবলার সাগরিকা এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘বাড়িতে ঘরে প্্রবেশ করে চোরেরা ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা চুরি করেছে। বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসককে অবগত করেছি। তিনি থানায় অভিযোগ দিতে বলেছেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আমার কোন খোঁজখবর নেয় নেয়না। তিনি আরো বলেন, ‘আমার পরিশ্রমের টাকা নিয়েছে, আমার কপাল তো নিয়ে যায়নি। জীবনে সুস্থ থাকলে টাকা আয় করতে পারব। কিন্তু এ ঘটনার পর থেকে আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) আরশেদুল হক বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত চলমান রয়েছে, খুব শীঘ্রই বিষয়টি উদ্ঘাটন করা হবে।