আমি সরকারি প্রতিষ্ঠান বলতে বুঝিয়েছি যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি বেতন প্রাপ্ত, অনুদান প্রাপ্ত
অবকাঠামো প্রাপ্ত সে সব প্রতিষ্ঠানকে সরকারি প্রতিষ্ঠান বলার চেষ্টা করেছি। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলতে বুঝিয়েছি যে সকল প্রতিষ্ঠান অনুদান প্রাপ্ত নয় বেতন প্রাপ্ত নয় কিংবা ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বুঝানো হয়েছে। ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর ম‚ল্যায়ন করতে চেয়েছি। দেখা যায় একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ের একজন শিক্ষককের বেতন কাঠামো সম্ভবত ১৬,০০০ হাজার থেকে ৬০,০০০ হাজার পর্যন্ত । বেতন মাস শেষে সরকার পৌঁছে দেয় তাদের হাতে এবং চাকরি শেষে তাদের চলার নিশ্চয়তা হিসেবে এক কালিন লক্ষ লক্ষ টাকা পান এবং অনেক ব্যক্তিকে প্রতি মাসে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পেনশনের টাকা পান। সরকারের বাজেট পরিবতনের সময় সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেতন ভাতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। শিক্ষক যোগদানের পর চাকুরীর বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বেতনও বৃদ্ধি পায়।, শুধু সরকারি প্রার্থমিক বিদ্যালয়ের বর্ণনা দিয়ে বলছি না। এখানে মাধ্যমিক , উচ্চ মাধ্যমিক এবং বিশ্বাবিদ্যালয় পর্যন্ত বুঝানো হয়েছে।
সরকারি ভাবে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো কে সরকারি অর্থয়নে নির্মাণ করা হয়েছে বহুতল ভবন। নির্মাণ করা হয়েছে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আবাসিক হোটেল। এবং শৌচাগর অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী বহনের জন্য গাড়িও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষককে ্৩৯;অনধিক বেতন দেওয়া হয় ৫-১০ হাজার টাকা। নেই কোনো পেনশন, নেই কোনো চাকরির নিশ্চয়ত, নেই কোনো অবসরে যাওয়ার পরে জীবনের কোন অর্থনীতির নিশ্চয়তা।
একজন ব্যক্তি বা তার অধিক ব্যক্তি মিলে গড়ে তুলেছে অনেক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাণীশংকৈলের মতো সারাদেশে । বাস্তবে দেখা যায় সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোকে ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন ভাতা না দিয়ে পড়ালেখার সুযোগ রয়েছে। অপরদিকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেতন নিয়ে ছাত্র/ছাত্রীদের পড়ানো হয়। অভিভাবকরা বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের ভতি করানোর জন্য হুমরি খেয়ে পড়ছে। অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোতে ছাত্র/ছাত্রী ভীর
তেমন লক্ষনীয় নয়। এই প্রসঙ্গে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে প্রতিষ্ঠানে ছাত্র/ছাত্রী কম কেন এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এত ছাত্র-ছাত্রী বেশি কেন? প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, সচেতন এবং ধনী লোকের ছেলে মেয়েরা
আমাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করতে চান না। প্রশ্ন করা হলে আপনাদের পড়ালেখার মান কম মর্মে ছাত্র-ছাত্রী ভতি হয় না। এতে কি প্রতিয়মান হয় না বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলেতে পড়া লেখার মান অনেক ভালো আছে! যে ফুলে মধু থাকে মৌমাছিরা সে ফুলেই মধু আহরণের জন্য জমা বাঁধে। কিন্তু মধু বিহিন ফুলে মৌমাছি যায় না। এই উদহারণটি কি এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
সরকারি বিদ্যালয় গুলিতে কম ছাত্র-ছাত্রী হাজিরার জন্য সরকার কর্তৃক মনিটরিং করার বিধান রাখা হয়েছে। নিয়োগ করা হয়েছে ইনিসপেকটর, ডিডি, জেলা শিক্ষা অফিসার, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার,সহকারী শিক্ষা অফিসার এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের। অথচ বেসরকারি শিক্ষা প্রতষ্ঠান গুলিতে এ ব্যবস্থা নেই। লক্ষ্য করা যায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলিতে ছাত্র-ছাত্রীর পোষাক বলেন, শৃঙ্খলা বলেন, নিয়মানুবতিতা সমস্থ কিছু সুষ্ঠু ভাবে পরিচালিত হতে দেখা যায়।
সেখানে নেই পরিচ্ছন্নতা কর্মী অথচ সমস্ত অবকাঠামো শৌচাগার সুন্দর ভাবে পরিচ্ছন্ন দেখা যায়। সরকারি শিক্ষা প্রতিস্ঠান গুলিতে দেখা যায় শৌচাগার আছে, বিল্ডিং আছে অথচ তা এত অপরিচ্ছন্ন যে দেখতে সুশ্রী দেখা যায় না। সৌচাগার গুলিতে দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্নতার কারণে ব্যবহার করায় ইচ্ছে হয় না। ছাত্র/ছাত্রীদের এই সকল প্রতিষ্ঠানে সরকারি ভাবে প্রতি বছর বরাদ্দ দিয়ে পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা রয়েছে যে ব্যবস্থাটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলিতে নেই। করোনার পর
প্রাথমিক মাধ্যমিক পর্যয়ে পঞ্চম শ্রেনি ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। অথচ করোনার প‚র্বে আমরা লক্ষ্য করেছি অনেক ছাত্র-ছাত্রীকে বেসরকারি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়ে গিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলিতে বৃত্তি দেখানো হয় এবং সেই ছাত্র- ছাত্রীরা বৃত্তি পেলে সুনাম অর্জন হয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে এতে লক্ষ্য করা গেছে যে সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নবম ও দশম শ্রেনি চালু রয়েছে সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুনিতে ছাত্র-ছাত্রীদের এসএসসি ৯ম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এই রুপ অহরহ ঘটনা বিদ্যমান। এমন কিছু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে জাতীয় করণ যেন তাদের জন্য আর্শিবাদ। কারণ ছাত্র-ছাত্রী এলো কি গেলো দেখার প্রয়োজন নেই মাস গেলেই বেতন পান।
বর্তমান সরকার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিস্ঠান থেকে ৫ম ও ৮ম শ্রেণির বৃত্তি পরিক্ষা বন্ধ করার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তা মেধাবি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃখজনক কিনা তা ভাববার বিষয়।
অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছাত্র/ছাত্রী ভতির প্রতিযোগিতা চলে। অনেক সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য অভিভাবকরা প্রতিযোগিতা করে না অথচ ওই দুই প্রকার প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষকদের যোগাতা অবকাঠামের প‚র্ণতা সবই সমান এক প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রতিযোগিতা অপর প্রতিষ্ঠানে ভর্তির অনিহা কারণটি হচ্ছে শিক্ষার মান কম ও বেশির কারণে। যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিযোগিতা হয় না সেই সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সহ সবস্তরের মন্ডলীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দেশপ্রেমে এগিয়ে আসা উচিত। আমি সরকারি অথবা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম‚হের কোন পক্ষেই সাফাই করছি না বা বদনাম করছি না। শুধু তুলনা করে আমার এই লেখা।