Sunday , 30 November 2025 | [bangla_date]

কাহারোলে আমন ধানের আশানুরুপ ফলন কম হওয়ায় কৃষকের ভাগ্যে মিলছে না কাঙ্খিত মুল্য

কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় বর্তমানে ৬টি ইউনিয়নে মাঠে মাঠে চলছে আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ করছেন ধান চাষী কৃষকরা। আমন ধান চাষীরা সকাল বেলা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান ঘরে তোলায় অতি ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যাচ্ছে। তবে এবছর হঠাৎ করে অসময়ে বৃষ্টিপাত হওয়া ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে অত্র জেলার কাহারোল উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে আমন ধানের তেমন একটা আশানুরুপ ফলন হয়নি বলে অনেক কৃষক জানান। তবে বাজারে আমন ধানের দাম কম থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন অনেক আমন ধান চাষী। এর ফলে উৎপাদন খরচ উঠানো তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। কৃষিবিভাগ লোকসান কাটাতে মৌসুমের শেষের দিকে ধান বিক্রির পরামর্শ দিচ্ছেন ধান চাষী কৃষকদেরকে। উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের আমন ধান চাষী মো: তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমি ৪ বিঘা জমিতে ৫১’ধান চাষাবাদ করেছি। এবার বৃষ্টি ও বাতাসে ধানের গাছ হেলে পড়ার কারণে ফলন কম হয়েছে। প্রতি বিঘা ৫০ শতক জমিতে ২৫ মণ ধান হয়েছে। এদিকে উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের ডাবোর গ্রামের নরেশ চন্দ্র রায় জানান, তিনি ১৮ বিঘা জমিতে স্বর্ণ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। ধান পড়ে যাওয়ার কারণে ফলন কিছুটা বিপর্যয় হয়েছে। একই এলাকার আরেক কৃষক রবীন্দ্র নাথ রায় সেও জানান, ৫১’ধান গুটি স্বর্ণ, সুমন স্বর্ণ-এই জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। ধান বাতাসে পড়ে যাওয়ার কারণে ফলন আশানুরুপ কম হয়েছে। যে সকল ধান পড়ে গেছে সেগুলো ১৫ থেকে ১৬ মণ বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে। বিনাধান’৩৪ বাতাসে পড়ে গেলেও যেগুলো দাঁড়িয়ে আছে সেগুলোতে ব্যাপক হারে বøাস্ট রোগের আক্রমণ দেখা গেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১৫ হাজার ৭৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭৫ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। গতবছরের তুলনায় এবার প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৭ মণ ধান কম উৎপাদন হয়েছে। বর্তমান বাজারে ধানের প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ১১শত টাকা থেকে ১২শত ২০ টাকা দরে প্রতি মন ধান বিক্রি হচ্ছে। অনেক কৃষক জানায়, হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে শ্রমের ধান এই দামে বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচ উঠানোই মুশকিল হচ্ছে। বর্গাচাষ জমির দামসহ খরচ পড়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকার মতো। ধান বিক্রি করে সর্বোচ্চ দাম পাওয়া যাচ্ছে ২৪ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। কৃষকেরা আরো বলেন, সারসহ কৃষির উপকরণ এর দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই অবস্থায় পরবর্তী ফসল আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি অফিসার(অঃদা) মোঃ খুরশিদ হাসান জানান, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ৫১ হাজার ২শত ৬৫ মেঃ টন চাল উৎপাদন আশা করা হচ্ছে। তিনি কৃষকদের হতাশ না হয়ে মৌসুমের শেষের দিকে তাদের অতি কষ্টের ফসল ধান বিক্রি করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন এবং এর ফলে ক্ষতি কিছুটা উঠে আসবে বলে তিনি আশাবাদী।

সর্বশেষ - ঠাকুরগাঁও