পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ে নানা আয়োজনে পঞ্চগড় মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে পঞ্চগড় হানাদার মুক্ত হয়। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা। দিবসটি পালনে গতকাল শনিবার সকালে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকে জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহŸায়ক আবুল কালাম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সায়খুল ইসলাম, পিপি অ্যাডভোকেট আদম সুফি, জিপি আব্দুল বারী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী বক্তব্য দেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধারা এম. আলাউদ্দিন প্রধান জানান, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর পাকবাহিনী সারাদেশে আক্রমণ শুরু করলেও ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পঞ্চগড় মুক্ত থাকে। পাকবাহিনী সড়ক পথে এসে ১৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় পঞ্চগড় দখল করে নেয়। তবে তেঁতুলিয়া সড়কের অমরখানায় চাওয়াই নদীর ওপর একটি ব্রিজ ভেঙ্গে দেওয়ায় পাকসেনারা তেঁতুলিয়া ঢুকতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়কাল তেঁতুলিয়া ছিল পাক হানাদার মুক্ত। মুক্ত অঞ্চল হিসেবে তেঁতুলিয়া সব কর্মকাÐের তীর্থ ভ‚মিতে পরিণত হয়। অস্থায়ী সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সভা তেঁতুলিয়াতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
১ নভেম্বর থেকে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় মিত্র বাহিনী যৌথভাবে আক্রমণ শুরু করে। ফলে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা মুক্ত হতে থাকে। পর্যায়ক্রমে পাক বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালিয়ে ২০ নভেম্বর অমরখানা, ২৫ নভেম্বর জগদলহাট, ২৬ নভেম্বর শিংপাড়া, ২৭ নভেম্বর পূর্ব তালমাসহ একই দিনে আটোয়ারী, মির্জাপুর, ধামোর, শক্রমুক্ত হয়। ২৮ নভেম্বর রাতে পাকবাহিনী পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ও নীলফামারীর ডোমার হয়ে সৈয়দপুরের দিকে পিছু হটতে থাকে। আর এভাবেই ২৯ নভেম্বর ভোরে হানাদার মুক্ত হয় পঞ্চগড়।


















