পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পদধ্বনি
৬৫ হাজার শীতবস্ত্রের চাহিদা দিয়ে জেলা প্রশাসকের চিঠি
সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড়
উত্তরের হিমালয় কন্যা বলে খ্যাত পঞ্চগড় জেলায় তাপমাত্রার পারদ নামছেই। গত এক সপ্তাহের অধিক সময় ধরেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে তেঁতুলিয়ায়। গতকাল শনিবার সকালে তেঁতুলিয়ায় দেশের মধ্যে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আর মাত্র দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নামলেই শুরু হবে মৃদুশৈত্য প্রবাহ। উত্তরীয় হিম বাতাস বইতে শুরু করায় গত দশদিন ধরে তেঁতুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে ১১-১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। গত শুক্রবারও সেখানে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। তবে এই কয়েকদিন ধরে সকাল থেকে ঝলমলে রোদের দেখা মেলায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে ২৬-২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার কারণে আগের চেয়ে তুলনামূলকভাবে একটু বেশি শীত অনুভ‚ত হচ্ছে। এই কয়দিন আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকায় সূর্যের প্রখরতা ছিল অনেকটাই কম। গত শুক্রবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্র নাথ রায় জানান, গত কয়েকদিন ধরেই তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও কমতে শুরু করেছে। চলতি মাসে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের বেশিরভাগ সময়ই কুয়াশার চাঁদরে ঢেকে থাকার কারণে সূর্যের আলো ভ‚পৃষ্টে কমে আসায় দিনের বেলাতেও হালকা শীত অনুভ‚ত হচ্ছে। সন্ধার পর পরেই গ্রামের হাট বাজার গুলো ফাঁকা হয়ে পড়ছে মানুষ হয়ে পড়ছে ঘরমুখি। এদিকে শীত জনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু এবং বয়স্করা হাসপাতাল গুলোতে ভর্তি হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান জানান, এবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ৩০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এই টাকা দিয়ে ৮ হাজার ৬৪০টি কম্বল কিনে পাঁচটি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নের বিতরণ করা হয়েছে। আরো ৬৫ হাজার মানুষকে কম্বল দেয়া প্রয়োজন। প্রতি বছর দুই তিনশ টাকা দামের কম্বল দেয়া হয়। এর মান এত খারাপ থাকে যে এক বছর ব্যবহারের পর তা পরের বছর ব্যবহারের উপযোগী থাকেনা। কমপক্ষে এক হাজার টাকা দামের কম্বল দেয়া দরকার। যাতে কয়েক বছর তারা ব্যবহার করতে পারে। এতে পরের বছর একই ব্যক্তিকে কম্বল দিতে হবেনা। এ জন্য ৬৫ হাজার কম্বলের চাহিদা দিয়ে সাড়ে ছয় কোটি টাকা মন্ত্রণালয়ের কাছে চেয়েছি।

















