Monday , 5 January 2026 | [bangla_date]

ঘোড়াঘাটে ছকমলের সংসার চলছে কাঁঠালপাতা বিক্রি করে !

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে কাঁঠালপাতা বিক্রি করে চলছে ছকমলের (৫৫) সংসার। চাষাবাদ বাড়ায় এখন ফাঁকা নেই মাঠ। ফলে ছাগল পালনে অনেকেই এখন উঠাননির্ভর হয়ে পড়েছে। যার কারণে ঘাসের পরিবর্তে কাঁঠালপাতার চাহিদা বেড়ে গেছে।
ছকমল পৌরশহরের সাহেবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। পরিবারে দুই ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে কাটছে তাদের জীবন।
পৌরশহরের আজাদমোড় এলাকায় গিয়ে দেখা মেলে ছকমল হোসেনের সঙ্গে। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, সাহাদুল, মেহেদুলকে সাথে নিয়ে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে কাঁঠাল পাতা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা। ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় গিয়ে দুই বন্ধু কাঁঠাল গাছ কিনেন আর তিনি ওই গাছের পাতা ভ্যানে করে নিয়ে গিয়ে পৌরশহরের বাজারে বাজারে গিয়ে বিক্রি করেন। শুরুর দিকে সামান্য আয় হলেও এখন তা বেড়ে গিয়েছে। এখন প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২’শ টাকা আয় হয় তাদের।
ছকমল জানান, প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে দুপুর পর্যন্ত দুই ভ্যান কাঠালের পাতা বিক্রি হয়। এক একটি ভ্যানে ২’শ ১০ আঁটি করে নিয়ে আসি। প্রতি আটি ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি করি। নির্ধারিত ক্রেতা রয়েছে যারা প্রতিদিন এসে পাতা কিনে নিয়ে যায়। এতে দৈনিক এক হাজার থেকে ১২’শ টাকা আয় হয়।
ক্রেতা লালমিয়া জানান, পার্শ্ববর্তী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাগদা বাজার এলাকায় তার বাড়ি।পঁচিশটি ছাগল রয়েছে তার। পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকে প্রতিদিন তিনি পাতা কিনতে আসেন। তার প্রতিদিন আঠারো আঁটি পাতা কিনতে হয়।
আর কিছু ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগের মতো মাঠ ফাঁকা নেই। জমিগুলোতে বড় বড় আলও নেই। এখন সারা বছর ঘাসের সংকট। তাই ছাগলকে ভুসির পাশাপাশি কাঁঠালপাতা খাওয়ান তারা। আগে ভাত খাওয়াতেন, এখন চালের দাম বাড়ায় কাঁঠালপাতা ও ভুসি খাওয়ান। এভাবে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন ক্রেতা রয়েছেন যারা সবাই প্রতিদিন কাঁঠালপাতা কিনে ছাগলকে খাওয়ান।
বছরের কয়েক মাস বিক্রি হলেও কাঁঠাল ধরার আগে আগে আর কেউ পাতা বিক্রি করেন না। তখন সাময়িকভাবে কয়েক মাস বন্ধ থাকে পাতা বিক্রি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. রবিউল ইসলাম বলেন, কাঁঠাল পাতা ছাগলের জন্য খুবই পুষ্টিকর ও প্রিয় খাবার, যা তাদের রুচি বাড়াতে, প্রোটিন সরবরাহ করতে এবং সার্বিক স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধির জন্য উপকারী। এটি তাদের খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
তিনি আরও জানান, শুধু কাঁঠাল পাতা নয়, অন্যান্য খাবার যেমন ঘাস, খড়, ও দানাদার খাদ্যও সমানভাবে দেওয়া উচিত যাতে একটি সুষম খাদ্যতালিকা নিশ্চিত হয়। তবে গাবাদিপশুর তেমন বিচরণভূমি নেই। মাঠ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে ঘাসের ওপর। ফলে পরিবর্তন এসেছে ছাগলের খাদ্যাভ্যাসেও।

সর্বশেষ - ঠাকুরগাঁও

আপনার জন্য নির্বাচিত