ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃদিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জুয়া ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলার ১নং বুলাকীপুর ইউনিয়নের কুলানন্দপুর এলাকায় করতোয়া নদীর খেয়াঘাট পার হয়ে জনৈক গোপাল চৌধুরীর বাড়ির পূর্ব পাশে একটি পরিত্যক্ত জমিতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে জুয়ার সরঞ্জাম, নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল উদ্ধার ও ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ধর্মদাসপুর উচাপাড়া এলাকার আঃ সাত্তারের ছেলে আলতাফ হোসেন (৪৫), একই জেলা ও উপজেলার ষোলঘড়িয়া ধর্মদাসপুর এলাকার মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রঞ্জু মিয়া (৩৮), বাঁশপুকুরিয়া গ্রামের মৃত ধন মাহামুদের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৫০), দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার দক্ষিন দেবীপুর এলাকার মৃত সাহেব উদ্দিন মুন্সির ছেলে ময়নুল ইসলাম (৫২) এবং গাইবান্ধা জেলার সাদ্যুল্লাহপুর উপজেলার আলদাদপুর এলাকার মৃত আজগর আলী মন্ডলের ছেলে সাদেকুল ইসলাম (৫০)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ঘটনাস্থলে টাকার বিনিময়ে ফরগুটি ও ডাবু দিয়ে জুয়া খেলার পাশাপাশি অবৈধ মাদক সেবন ও কেনাবেচা চলছিল। সহকারী পুলিশ সুপার (হাকিমপুর সার্কেল) আ.ন.ম নিয়ামত উল্লাহর নেতৃত্বে ঘোড়াঘাট থানার ওসি শহিদুল ইসলাম সহ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জুয়াড়ি ও মাদক কারবারিরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রায় ১০০ থেকে ১১০ জনের একটি দল দলবদ্ধ হয়ে দায়িত্ব পালনে বাধা এবং হত্যার উদ্দেশ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় ঘোড়াঘাট থানার এএসআই মো. আরিফ হোসেন, এএসআই আব্দুল মান্নান সরকার, কনস্টেবল তুহিন বাবু, মিঠুন চন্দ্র দাস ও জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ছেলা-ফোলা জখম হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সহকারী পুলিশ সুপারের নির্দেশে দেহরক্ষী কনস্টেবল জাহাঙ্গীর আলম আত্মরক্ষার্থে তার ইস্যুকৃত ৯ এমএম পিস্তল থেকে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন।
ঘটনাস্থল থেকে ১৩টি ফরগুটি, ২টি কালো রঙের রাবারের বড় ডাবু, ৪ হাজার ৮০০ টাকা নগদ, ৪টি বাটন মোবাইল ফোন, ১টি স্মার্টফোন এবং ৫ বোতল অবৈধ মাদক ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (হাকিমপুর সার্কেল) আ.ন.ম নিয়ামত উল্লাহ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সীমান্তবর্তী ও দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র জুয়া ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ঘটনায় ঘোড়াঘাট থানায় মাদক ও জুয়া আইনে একটি এবং পুলিশের আহত হওয়ায় একটি সহ দুটি মামলা রুজু করে বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামীদেরকে দিনাজপুর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


















