মো. রফিকুল ইসলাম, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে পুলিশ সুপার পরিচয়ে বিএনপি প্রার্থীসহ বিএনপি নেতার নিকট প্রতারণার মাধ্যমে টাকা নেয়ার অভিযোগে মোবাইল ও টাকাসহ দুই প্রতারককে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদ সম্মেলন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃত দুই প্রতারক হলো, জুনাইদ খন্দকার (২৪) নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার রয়েরবাড়ী চরহোসেনপুর গ্রামের ইদ্রিস খন্দকারের ছেলে। অপরজন মো. হিমেল (২২), ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরহোসেনপুর গ্রামের এরশাদ আলীর ছেলে।
প্রেস ব্রিফিংয়ের সুত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে প্রতারণার শিকার হন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শিল্পপতি আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান। প্রতারক চক্র দুজনকে একই কাজের কথা বলে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে আখতারুজ্জামান মিয়ার পক্ষে আব্দুলপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন চিরিরবন্দর থানায় এজাহার দাখিল করলে ও শিল্পপতি আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান মৌখিকভাবে জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করলে অভিযান শুরু করে দিনাজপুর জেলা পুলিশ। মুঠোফোনের সূত্র ধরে রবিবার ভোরে গাজীপুর শহর থেকে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার চর হোসেনপুর গ্রামের প্রয়াত ইদ্রিস খন্দকারের ছেলে জুনাইদ খন্দকার (২৪) ও ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রয়েরবাড়ী গ্রামের আরশাদ আলীর ছেলে মো. হিমেলকে (২২) নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। ধৃতরা ব্যক্তিরা বর্তমানে দিনাজপুর জেলা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
চিরিরবন্দর থানায় দায়ের করা মামলায় জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাতে প্রতারক চক্রের ফোন পান সাবেক মংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মো. আখতারুজ্জামান মিয়া। তাঁকে পুলিশ সুপার পরিচয়ে জানানো হয়, দুটি পুলিশ বক্স বানানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে কিছু আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। দ্রæত নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে। আইজিপি পরিদর্শনে আসবেন। ফোন পেয়ে আখতারুজ্জামান মিয়া আব্দুলপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেনকে টাকা পাঠানোর দায়িত্ব দেন। পরদিন বুধবার বিকেলে প্রতারক চক্রের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে এক লাখ টাকা পাঠান ইমরান। রাতে আবারও এক লাখ টাকার জন্য আখতারুজ্জামান মিয়াকে ফোন করা হলে সন্দেহ হয় এবং চিরিরবন্দর থানায় বিষয়টি অবহিত করে প্রতারক চক্রের বিষয়টি নিশ্চিত হন তিনি।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক বিএনপি নেতা বলেন, প্রতারকের মুঠোফোনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটির নাম লেখা ‘এসপি দিনাজপুর’ নামে। নম্বরের সঙ্গে পুলিশ সুপারের (এসপি) ছবিও যুক্ত আছে। সেই নম্বর থেকে বিএনপির দুইজন নেতাকে ফোন করে জানানো হয়। নির্বাচন সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে এলাকায় দুইটি পুলিশ বক্স বানানো প্রয়োজন। কিছু আর্থিক সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়। একপর্যায়ে পরিমাণও জানিয়ে দেয়া হয় বিএনপি নেতাদের। নেতারাও সরল বিশ্বাসে টাকা দেন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। দ্বিতীয়বার টাকা চেয়ে আবারও ফোন আসে একই নম্বর থেকে। তখন নড়েচড়ে বসেন বিএনপি নেতারা। বুঝতে পারেন কলটি ছিল ভুয়া এসপির। কিন্তু ততক্ষণে টাকা দেয়া হয়ে গেছে। আসল এসপির নম্বরে ফোন করে নেতারা জানতে পারেন, তিনি কাউকে এ বিষয়ে কল করেননি।
প্রতারণার শিকার আরেক বিএনপি নেতা শিল্পপতি আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান বলেন, ‘যখন ফোন আসলো, দেখলাম এসপির নম্বর থেকে, ফোন স্ক্রিনে ছবিও ভেসে উঠল এসপির। পরিচয় দিয়ে পুলিশ বক্স নির্মাণের জন্য সহযোগিতা চাইল। আমার সহকারীকে বলে সিএসআর ফান্ড থেকে টাকা পাঠিয়ে দেয়া হলো। ঘণ্টাখানেক পরে আবার ফোন করে বলে কাস্টমসের কিছু মালামাল আছে স্বল্পমূল্যে কেনার সুযোগ আছে। এবার সন্দেহ হয়। সাথে সাথে ভিডিও অন করি। অমনি ফোনকলটি কেটে দেয়। পরে এসপির সাথে কথা বলে বিষয়টি অবহিত করি এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাই।
এ ব্যাপারে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন বলেন, এসপির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আরো অধিকতর তদন্ত করা হবে। পুরেনা প্রতারকচক্রকে সনাক্ত ও আটক করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

















