রফিকুল ইসলাম, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে রঙিন ফুলকপির বাম্পার ফলন হয়েছে। রঙিন ফুলকপি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষক মতিয়ার রহমান। তিনি উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের নশরতপুর গ্রামের কাজিপাড়ার মৃত জরিপ উদ্দিনের ছেলে। তিনি বছরের বিভিন্ন সময় সবজি চাষ করে থাকেন। তিনি এবছর অন্যান্য ফসলের সাথে ফুলকপি, স্কোয়াশ, ব্রুকলি ও ওলকপি চাষ করেছেন। সাথে চাষ করেছেন নতুন জাতের রঙিন ফুলকপিও। ফলনও হয়েছে আশানুরুপ। পেয়েছেন সফলতা।
কৃষক মতিয়ার রহমান জানান, টিভিতে রঙিন কপির ছবি দেখে তা চাষের প্রতি আমার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এ জন্য আমি প্রথম বছর দিনাজপুর, বীরগঞ্জ, সৈয়দপুর, রংপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় রঙিন কপির বীজ কিংবা চারার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেছি। কিন্তু রঙিন কপির বীজ বা চারার সন্ধান কোথাও পাইনি। এক পর্যায়ে সিনজেন্টা কোম্পানীর জনৈক প্রতিনিধি প্যাকেট ছাড়াই বেগুনি রঙের ভেলেনটিনা ও কমলা রঙের কেরটিনা জাতের রঙির কপির বীজ সরবরাহ করেন। আমি এসব বীজের চারাসহ ব্রুকলি, ফুলকপির চারা করে আবাদ করি। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। চলতি বছরও আমি উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় দেশি জাতের কপিবাদে ৪০ শতক জমিতে বেগুনি, কমলা, খয়েরী রঙের কপি ও ব্রুকলি এবং ১৫ শতক জমিগে স্কোয়াশ চাষ করেছি। এতে আমার খরচ হয়েছে অন্তত ২০ হাজার টাকা।
এসব কপি চাষাবাদ সম্পর্কে তিনি জানান, খেতে কোনোপ্রকার কীটনাশক ও সার প্রয়োগ না করে কেবল জৈব সার ব্যবহার করেছেন তিনি। চারা রোপণের ৭০ থেকে ৭৫দিনের মধ্যেই গাছে ফুল আসা শুরু করে। বর্তমানে তিনি এসব কপি বিক্রি করছেন। বাজারে ক্রেতাদের রঙিন কপির প্রতি বেশ আগ্রহ থাকায় দামও ভালো পাচ্ছেন। বাজারে সাধারণ ফুলকপি ৩০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর রঙিন ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০টাকা কেজি দরে। বাজারে নেয়া মাত্রই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে এসব রঙিন কপি। এসব কপি বিক্রি করে ইতিমধ্যেই আমার খরচের টাকা উঠেছে। আরও অন্তত ৩০ হাজার টাকার কপি বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছেন তিনি। মতিয়ারের এমর সফলতায় অনেকেই রঙিন কপি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। নিয়মিত পরিচর্যা এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে পেয়ে যান সফলতা।
কৃষক মতিয়ার রহমান আরও জানান, প্রতিদিন কৃষকসহ অনেকেই তার খেতে বিদেশি জাতের রঙিন ফুলকপি দেখতে ভিড় করছেন। কেউ কেউ নিচ্ছেন চাষের পরামর্শ। আবার কেউ কেউ তুলছেন রঙিন ফুলকপির ছবি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩২০ শতক জমিতে ১৬টি স্কোয়াশ প্রদর্শনী ও ১৮০ শতক জমিতে ৬টি রঙিন ফুলকপির প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে।
এসবের মধ্যে উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের ছোট হাশিমপুর গ্রামের পুলক রায়, আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের ভবতোষ রায়, ভিয়াইল ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের জুলেখা খাতুন ও তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের সিংগানগর গ্রামের চিত্ররঞ্জন রঙিন ফুলকপি চাষ করেছেন। স্কোয়াশ চাষ করেছেন সাতনালা ইউনিয়নের জোত সাতনালা গ্রামের রেজাউল হক, ফতেজংপু ইউনিয়নের ফতেজংপুর গ্রামের মহসিন আলী, নাছিমা বেগম, ইসবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণনগর গ্রামের মনতাজুল হক, অমরপুর ইউনিয়নের অমরপুর গ্রামের রুবেল ইসলাম, ভিয়াইল ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের মর্জিনা বেগম, পুনট্টি ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের আয়েশা সিদ্দিকা, তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের গোন্দল গ্রামের গজেন্দ্র নাথ রায়।
উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. খাদেমুল ইসলাম জানান, রঙিন ফুলকপি ভেষজগুণ সম্পন্ন একটি সবজি। স্বাদেও ভালো। সাধারণ ফুলকপির তুলনায় রঙিন ফুলকপিতে ২৫ শতাংশের বেশি ক্যারোটিন রয়েছে। যা ত্বক ও চোখকে ভালো রাখে। এটি কোলাজেন ধ্বংস করে। যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা বলেন, দিনাজপুর অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলতি মৌসুমে ১৬টি স্কোয়াশ ও ৬টি রঙিন ফুলকপির প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন উচ্চ মূল্যের সবজি যেমন স্কোয়াশ, ব্রুকলি, রঙিন বাঁধাকপির আবাদ প্রদর্শনী কৃষকদের প্রদান করা হয়েছে। রঙিন ফুলকপিতে সাদা ফুলকপির তুলনায় অধিক পুষ্টিগুণ রয়েছে। রঙিন ফুলকপির বাজার মূল্য সাদা ফুলকপির তুলনায় অনেক বেশি। উচ্চ মূল্যের নতুন সবজি হিসেবে এগুলো গ্রাহকদের নিকট সমাদৃত হচ্ছে। আশা করছি, এসব নতুন আবাদ সম্প্রসারিত হলে কৃষকরা নিঃসন্দেহে লাভবান হবেন।

















