‘চাল, লিচুতে ভরপুর, জেলার নাম দিনাজপুর’। চাল, লিচু চাষের জন্য বিখ্যাত হলেও এ অবশেষে দিনাজপুরের প্রবেশমুখে স্থাপিক হয়েছে নান্দনিক ‘লিচু চত্বর’। ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু লিচুকে ব্র্যান্ডিং করা, নগরীর নান্দনিকতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এই লিচু চত্বর নির্মাণ করা হয়েছে। রাতেও দর্শনার্থীদের আর্ষন করছে। এখন এই লিচু চত্তরকে ঘিরে বেড়েছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। কেউ সেলপি বা ছবি তুলছেন। আবার কেউ পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটু গাড়ী থামিয়ে এক নজর দেখে সেলফিও তুলছেন। দীর্ঘদিন ধরে দেশ সেরা লিচুর শহর দিনাজপুরের এই লিচু চত্তর নির্মানের।
অবশেষে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারী দিনাজপুর শহরের প্রবেশমুখে ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যবর্ধনের দিনাজপুর সরকারি কলেজ মোড়ে নির্মানশেষে “লিচু চত্বর” উদ্বোধন করা হয়েছে।এই লিচু চত্তরটি এখন সোস্যাল মিডিয়ার সুবাদে সারাবিশ্বে দিনাজপুরকে রিপ্রেজেন্ট করছে।
লিচু চত্বরটির উদ্বোধন করেন রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, এনডিসি, মোঃ শহিদুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)দিনাজপুর ও দিনাজপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক।
তাঁর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেই লিচু চত্বর আজ বাস্তব রূপ পেয়েছে। নগর উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও জনবান্ধব উদ্যোগে তাঁর ভূমিকা দিনাজপুরবাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
দিনাজপুরের গর্ব লিচুকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই লিচু চত্বর ভবিষ্যতে পর্যটন, সংস্কৃতি ও নগর পরিচিতির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠবে-এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, আদিকাল থেকে বাংলাদেশের মধ্যে দিনাজপুরে প্রথম লিচু চাষ শুরু হয়। তবে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা সন জানা যায়নি। জনশ্রুতি রয়েছে ব্রিটিশ আমলে কোন একসময় সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মাশিমপুর গ্রামের আব্দুল হক ভারতের বোম্বাই থেকে বেদানা লিচুর চারা নিয়ে এসে রোপণে করেন। সেই থেকে দিনাজপুরে লিচু চাষ শুরু হয়। একে একে বোম্বাই, মাদ্রাজি, হারিয়া বেদানা, কাঁঠালি, চায়না-থ্রি, গোলাপিসহ বিভিন্ন জাতের লিচু চাষ শুরু হয়। দিনাজপুরের লিচু দেশ-বিদেশে কদর অর্জন করলেও লিচু নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা বা কাজ হয়নি। অথচ এ জেলায় লিচু চাষে রয়েছে দেড়শ বছরের ইতিহাস। সারাদেশে লিচু চাষ হলেও দিনাজপুরের লিচুর কদর আলাদা।দেশের মানুষ দিনাজপুরের লিচুকে প্রাকৃতিক রসগোল্লা হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।
আব্দুল রাকিব, সবুর চৌধুরী, ফারুক হোসেনসহ দর্শনার্থীরা জানান, দেশের সেরা ও স্বাদের লিচু দিনাজপুরে হয়। এই লিচু শুধু দিনাজপুর নয় বিদেশেও যাচ্ছে। এখনকার চাহিদা পুরন করে দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। এই নান্দনিক লিচু চত্তর দিনাজপুরকে প্রেজেন্ট করছে সারা বিশ্বে। নগরীর নান্দনিকতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কয়েকজন অটোালক জানান,এই স্থানটি দিনাজপুর সরকারী কলেজ মোড় নামে পরিচিত। কিন্তু লিচু চত্তরটি নির্মাণের পর এখন লিচু চত্তর নামে পরিচিত হয়েছে।
দিনাজপুর সরকারী কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘চাল, লিচুতে ভরপুর, জেলা মোদের দিনাজপুর’। এরই মধ্যে লিচুকে জিআই পন্য হিসেবে স্বিকৃতি পেয়েছে। ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু লিচুকে ব্র্যান্ডিং করা, নগরীর নান্দনিকতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এই লিচু চত্তরটি এখন সোস্যাল মিডিয়ার সুবাদে সারা বিশ্বে দিনাজপুরকে রিপ্রেজেন্ট করছে। এই লিচু চত্তরটি দিনাজপুর তথা বাংলাদেশকে বিশ্বে রিপ্রেজেন্ট করছে।


















