আমনের ভরা মৌসুম চলছে; মজুত ও সরবরাহে ঘাটতি নেই-তারপরও বাজারে চালের দাম বেড়েছে। দাম বেশি থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। তবে চাল ব্যবসায়ীদের দাবি, ধানের দাম বাড়লে চালের দাম বাড়াটাই স্বাভাবিক।
ধান ও চাল উৎপাদনে দেশের অন্যতম জেলা দিনাজপুর। আমন ধান কাটা ও মাড়াই শেষ। এখন হাটে-বাজারে চলছে জমজমাট বেচাকেনা। মিলার ও চাল ব্যবসায়ীদের কাছে পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও চালের দাম কমছে না, বরং বাড়ছে। কোনোভাবেই দাম নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
প্রতি কেজিতে চালের দাম বেড়েছে ২ থেকে ৪ টাকা। আর আতপ চিকন জিরা কাঠারীর দাম বেড়েছে কেজিতে ১২ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের নজরদারির কথা বলা হলেও বাস্তবে তেমন সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ।
দিনাজপুর শহরের সবচেয়ে বড় বাহাদুর বাজারের চালের মার্কেটে বর্তমানে ব্রি-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৮ থেকে ৬২ টাকায়, ব্রি-২৯ ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, সুমন স্বর্ণ ৪৮ থেকে ৪৯ টাকা, গুটি স্বর্ণ ৪৬ থেকে ৪৭ টাকা, মিনিকেট ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, নাজির শাইল ৭৮ থেকে ৮৫ টাকা, সিদ্ধ কাঠারী ১৪০ টাকা, জিরা কাঠারী ১১৫ থেকে ১৩০ টাকা এবং বাসুমতি ৮২ টাকা কেজি দরে।
দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ। তাদের অভিযোগ, চালের কেজিতে দাম ৩ থেকে ৪ টাকা বাড়ায় পরিবারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ী প্রদ্যুত কুমার রায় বলেন, আড়তদারদের কাছ থেকে প্রতি বস্তায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে।
অন্যদিকে আড়তদার এরশাদ জানান,বড় অটো রাইস মিল ও করপোরেট কোম্পানিগুলো মূলত চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে মিলারদের যুক্তিরও শেষ নেই। মিলারদের দাবি, ধানের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই চালের দাম নির্ধারণ করা হয়।
মিলার-চালকল মালিক গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক আজিজুল ইকবাল চৌধুরী বলেন, মিলারদের কাছে তেমন চাল মজুত নেই। চাল ক্রাশিংয়ের জন্য ধান সংরক্ষণ করতে হয়। যাদের খাদ্য অধিদফতরের লাইসেন্স নেই, এমন বড় ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন গুদাম ভাড়া করে চাল ও ধান মজুত করছে। খাদ্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে বাজারে এর সুফল পাওয়া যাবে।
দিনাজপুর জেলার চালের বার্ষিক চাহিদা ৭ লাখ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে উৎপাদন হয় প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন চাল। উদ্বৃত্ত ৯ লাখ মেট্রিক টন চাল যায় জাতীয় খাদ্য ভাণ্ডারে। দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী জানান, জেলায় চুক্তি যোগ্য অটো রাইস মিল রয়েছে ২৯০টি এবং হাসকিং মিল রয়েছে ১ হাজার ২১০টি।
















