বাংলাদেশ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেছেন, “বাংলাদেশ বিপুল জনসংখ্যার দেশ।অল্প জায়গায় বিশাল জনগোষ্ঠীর বসবাস। এই মানুষ আমাদের দায় নয়, বরং আমাদের সম্পদ। তবে এই সম্পদকে কাজে লাগাতে হলে তাদের মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।
রোববার দিনাজপুর শহরের বালুয়াডাঙ্গা এলাকায় (শহীদ মিনার মোড় সংলগ্ন) ‘দিনাজপুর ইন্সস্টিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (ডিআইএসটি)’এর আয়োজনে দিনব্যাপী ‘চাকুরী মেলায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কারিগরি শিক্ষা বিভাগের অধীন ‘এক্সিলারেট এন্ড স্ট্রেনদিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন’ (এসেট) প্রকল্পের উদ্যোগে চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য দিনাজপুরে দিনব্যাপী চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি উদ্যোগে দিনাজপুর জেলায় এই প্রথমবারের মতো চাকরি মেলার আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
দিনাজপুর ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ডিআইএসটি) প্রাঙ্গণে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ চাকরি মেলায় তিন শতাধিক চাকরি প্রত্যাশী ছেলে-মেয়ে পাসপোর্ট সাইজ ছবি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিসহ প্রফেশনাল সিভি জমা দিয়ে ইন্টারভিউ দেন।যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মোট ১১১জনকে চাকরি প্রদান করে নিয়োগপত্র প্রদান করে। চাকরিপ্রাপ্তদের মাসিক বেতন ১৩ থেকে ১৬হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।
চাকরি মেলার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চাকরিপ্রাপ্তদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বাংলাদেশ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। তিনি আরো বলেন, মানুষকে কাজে লাগাতে হলে তাদের মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। সে লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ডিআইএসটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিআইএসটির অধ্যক্ষ মামুনুর ফেরদৌস বলেন, “গত এসএসসি পরীক্ষায় দেশের ৮টি শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল।এর মধ্যে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন উত্তীর্ণ হয়। অথচ পাশ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী দেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়নি। এমনকি কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আট দফা সময় বাড়ানোর পরও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৪ হাজার ৪৫৯টি আসন ফাঁকা রয়েছে। এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
চাকরি পাওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, বেকার থাকা যে কতটা কষ্টসাধ্য, তা চাকরিজীবীরা অনেক সময় বুঝতে পারেন না। প্রতিদিন পরিবার ও সমাজের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তায় ভুগতে হয়। আজ এই চাকরি মেলার মাধ্যমে চাকরি পেয়ে মনে হচ্ছে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও পরিশ্রমের ফল পেলাম। এমন উদ্যোগ আরও বাড়লে আমাদের মতো অনেক তরুণ-তরুণীর জীবনে নতুন করে আশার আলো জ্বলবে।
ডিআইএসটির পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রশিদ জানান, বেসরকারি উদ্যোগে দিনাজপুরে এই প্রথম চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ‘এক্সিলারেট এন্ড স্ট্রেনদিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন’ (এসেট) প্রকল্পের উদ্যোগে এ চাকরি মেলায় দিনাজপুর-ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মোট ১৫টি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। চাকুরী প্রত্যাশী তিন শতাধিক ছেলে-মেয়ে তাদের নাম নিবন্ধন করে ইন্টারভিউ দেয়। যাচাই-বাছাই শেষে ১১১ জনকে চাকরি প্রদান করা হয়। যাদের বেতন ১৩ থেকে ১৬ হাজার টাকার মধ্যে।আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিয়োগপ্রাপ্তরা তাদের চাকরিতে যোগদান করবেন বলে জানান তিনি।
চাকরি মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিলÑ বিডিজবস ডটকম, টেক জব বিডি (ঢাকা), ম্যাটাডোর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, জিওস্ক্যাপ কনসাল্টেন্টস লিমিটেড, টেকনো ফার্স্ট লিমিটেড, সার্ভে কর্পোরেশন (প্রা.) লিমিটেড, সার্ভিক বিপিও লিমিটেড, মেরিট ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি অ্যান্ড অটোমেশন (গাজীপুর),মাস্টার নিটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড,নিউ মাল্টিপারপাস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন, আরএফএল রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড, বাংলাদেশ ল্যাম্পস লিমিটেড (নরসিংদী), মেটলাইফ-আমেরিকান লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি (বগুড়া), ইসলাম হাউজ বিল্ডার্স (দিনাজপুর) এবং দিনাজপুর প্ল্যানার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন।

















