পঞ্চগড় প্রতিনিধি
উত্তরের শীতের জেলা পঞ্চগড়ে দুইদিন পর কয়েক ঘন্টার জন্য সূর্যের দেখা মিললেও তাতে ছিল না উত্তাপ। সূর্যের কিরণ না থাকা আগের দিনের মতই শীতের তীব্রতা অনুভ‚ত হয়েছে গতকাল মঙ্গলবারও। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভারী কুয়াশার সাথে উত্তরের হিমালয়ান কনকনে শীতল বাতাস কাবু করে ফেলেছে এই জনপদের মানুষজনকে। শীত নিবারণের গরম কাপড়ের অপ্রতুলতায় শীতার্ত মানুষগুলোকে খড়কুটো জ্বেলেও শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তবে এই তীব্র শীত ঘরে রাখতে পারেনি খেটে খাওয়া কর্মজীবী মানুষদেরকে। ঘন কুয়শার সাথে হীম শীতল বাতাস উপেক্ষা করেই তাদের কাজে বের হতে দেখা গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পুটিমারী এলাকায় দেখা দেছে তীব্র ঠান্ডা উপেক্ষা করে আলু ক্ষেতে কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষি শ্রমিকরা। ওই গ্রামের কৃষি শ্রমিক বিনতী রানি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। দিনে এনে দিনে খাই। ঠান্ডায় বাড়িতে বসে আগুন তাপালে কি আমাদের পেট ভরবে। ঠান্ডা কি, গরম কি আর বৃষ্টি কি-আমাদের কাজ করতেই হবে। কাজ না করলে আমাদের পেটে ভাত নাই। ঠান্ডার মধ্যে মুড়ি-চা খেয়ে আমাদের জমিতে নামতে হয়েছে। বরফের মত ঠান্ডা মাটিতে কাজ করে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। সারাদিন কাজ করে পাই তিনশ টাকা। এই টাকা দিয়েই চলে আমাদের গরিবের সংসার।
সোমবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুয়াশা নজরে না এলেও উত্তরের কনকনে শীতল বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় এই মৌসূমের সবচেয়ে বেশি শীত অনুভ‚ত হতে থাকে। এ অবস্থায় সন্ধ্যার পর থেকে ফাঁকা হতে থাকে রাস্তাঘাট-বাজার। রাত নয়টার পর থেকে হাট বাজারে মানুষের আনাগোনা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পঞ্চগড় বাজারের পান ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান জানান, আগে যেখানে রাত দুইটা পর্যন্ত বাজারে মানুষজন থাকত; সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই তীব্র ঠান্ডায় টিকতে না পেরে মানুষজন বাজার ছেড়ে বাড়ি ফিরে যায়। রাত দশটার পর থেকে বাজার প্রায় মানুষশুন্য হয়ে পড়ে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ছিল ঘন কুয়াশায় ঢাকা। এ সময়ের মধ্যে সড়ক-মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। কুয়াশার ভেদ করে বেলা দেড়টার দিকে দেখা মিলে সূর্যের। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আলোকিত করে রাখলেও কুয়াশার কারণে উত্তাপ ছড়াতে পারেনি।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গতকাল সোমবার সকালে তেঁতুলিয়ায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা আগের দিন ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হঠাৎ করে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা অনেক বেশি কমে যাওয়ায় এই অঞ্চলে তীব্র শীত অনুভ‚ত হচ্ছে। দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিললেও কুয়াশার কারণে উত্তাপ ছড়াতে পারেনি। সেই সাথে উত্তর দিক থেকে আসা হিম শীতল বাতাসের কারণে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বাড়তে পারেনি। মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় এখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন সোমবার রোদ না থেকেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশা কেটে পূর্ণাঙ্গভাবে সূর্যের উত্তাপ না হওয়া পর্যন্ত
এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।


















