আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নির্মিত হলেও দীর্ঘ দুই বছরেও আলোর মুখ দেখেনি দিনাজপুরের হাকিমপুর-হিলি পৌরসভার সবজি মার্কেট। উদ্বোধনের অপেক্ষায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে অবকাঠামো, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে বা রাস্তায় বসে ব্যবসা করছেন। এর ফলে সরকার প্রতি বছর বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তবে দ্রæত সবজির মার্কেট উদ্বোধন করে চালু করা হবে বলছেন পৌর কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, ইউআইআইপি এর অর্থায়নে ১ কোটি ১৩ লক্ষ ২৭ হাজার ২৩০ টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালের জুন মাসে এই সবজি মার্কেটটি নির্মাণ করা হয় এবং কাজ শেষ হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। কিন্তু দুই বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও অদৃশ্য কারণে এখনো এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মার্কেট প্রাঙ্গণে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমেছে এবং অনেক জায়গায় জানালার কাঁচ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হতে শুরু করেছে। মার্কেটটি চালু হলে এখান থেকে দোকান বরাদ্দ এবং মাসিক ভাড়া বাবদ প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হতো। দোকান বরাদ্দ না হওয়ায় সরকার স্থায়ী আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে মূল মার্কেট চালু না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সড়কের ওপর পসরা সাজিয়ে বসছেন, ফলে শহরজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। খোলা জায়গায় ব্যবসা করায় রোদ-বৃষ্টিতে পচে যাচ্ছে কৃষকের উৎপাদিত সবজি।
হিলি বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুই বছর ধরে শুনছি মার্কেট চালু হবে। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে আমরা এখনো রাস্তায় বসতে বাধ্য হচ্ছি। এতে আমাদের যেমন কষ্ট হয়, তেমনি মালামালও নষ্ট হয়।
হিলি বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরমান আলী প্রধান বলেন, সরকারি বিশাল অংকের ব্যয়ে নির্মিত এই স্থাপনাটি অলস ফেলে রাখা কেবল অর্থের অপচয় নয়, বরং দায়িত্বহীনতার পরিচয়। দ্রæত সবজি মার্কেটটি চালু করে শহরের যানজট নিরসন এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের পথ সুগম হবে। দ্রæত পদক্ষেপ না নিলে এই আধুনিক ভবনটি অচিরেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপই পারে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফোটাতে।
এ বিষয়ে পৌরসভার পৌর প্রশাসক সাব্বির হোসেন বলেন, মার্কেটটি চালু করার প্রক্রিয়া অনেকটা এগিয়েছে। দোকানদারদের তালিকা প্রণয়ন এবং ভাড়ার হার নির্ধারণ নিয়ে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা ছিল। আমরা আশা করছি খুব দ্রæতই এটি ব্যবসায়ীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

















