তেতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি :
‘এ পৃথিবীতে আমার কেউ নেই । আমি একা । শীতের সময় এলেই যখন চারপাশে পিঠাপুলি খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। তখন আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়। আজ শীতের পিঠা খেয়ে খুব ভালো লাগলো। মনে হচ্ছে আমার আপনজন আমাদের জন্য পিঠা নিয়ে এসেছে।’ এমনিই ভাবে আবেগ আপ্লূত হৃদয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করছিলেন পঞ্চগড় আহছানিয়া শিশু নগরির সদস্য সাকিব হাসান। পঞ্চগড় আহছানিয়া মিশন শিশু নগরিতে। শীতের পিঠা পেয়ে এতিম শিশু হৃদয় এর মতো খুশি মিশনের ১৬০ জন পরিচয়হীন, অনাথ পথশিশু।
এদের কারো বাবা নেই, কারো মা নেই । কারো এ বিরাট পৃথিবীতে কেউ নেই । কেউ আবার জানেই না তার পরিচয়। এরা সবাই পথশিশু। রেললাইনের প্লাটফর্ম কিংবা ব্যস্ত শহরের রোড ডিভাইডার কিংবা সড়কের ব্রীজের নিচে যাদের ছিলো ঘরবাড়ি এখন তারা আশ্রয় পেয়েছে পঞ্চগড়ের আহছানিয়া মিশন শিশু নগরিতে। ১৬০ জন শিশুর মধ্যে বেশিরভাগ শিশু পরিচয়হীন। আর যারা আছে তাদের কারও বাবা কারও মা আবার কারও মা বাবা দুজনেরই স্নেহ মায়া মমতা এবং ভালোবাসা পায় নি এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে। দুঃখ যাদের চিরসঙ্গী, তাদের এখন সঙ্গী এই আহছানিয়া মিশনের শিক্ষক আর বন্ধুরা। সুখ দুঃখ আর কষ্ট ভাগাভাগি করে তারা এখানে একসাথে অবস্থান করছে বছরের পর বছর। পরিবারের স্নেহ মায়া মমতা বঞ্চিত এসব শিশু এখানে বড় হচ্ছে এই আহ্ছানিয়া মিশনের তত্ত্বাবধানে। লেখাপড়া করে নিজের মতো করে সুশিক্ষিত করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ও গড়ে তোলার স্বপ্ন তাদের চোখে মুখে। শুক্রবার সকালটি তাদের শুরু হয় ব্যাতিক্রম ভাবে । আকস্মিক তাদের দরজায় হাজির হয় পঞ্চগড় জেলার সমাজসেবক অপ্রতিরোধ্য অদম্য তরুণ সমাজকর্মী এড. আহসান হাবিব সরকার।
শূন্য হাতে নয় বালতি ভর্তি করে শীতের দুধচিতই পিঠা নিয়ে হাজির আহসান হাবীব সহ তার সংগীয়রা । মুহুর্তেই শুরু হয় আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের শোরগোল পরে যায় । উচ্ছসিত শিশুদের চোখে মুখে অপেক্ষা কখন হাতে পাবে মিষ্টি ঝাল স্বাদের দুধচিতই। এরপর শুরু হয় পিঠা বিতরণের কর্মসূচি। দলবেঁধে বসে বেশ তৃপ্তি করে পিঠা খায় মিশনের সব শিশু। পিঠা উৎসবে যোগ দেয় মিশনের শিক্ষক ও কর্মচারীরাও । পিঠার স্বাদ আর গন্ধে ভরে যায় মিশনের বিস্তৃত এলাকা । কিছু সময়ের জন্য পিঠা উৎসবে শিশুরা ভুলে যায় তাদের সব দুঃখ কষ্ট।
পরিচয়হীন পথশিশু হৃদয় বলেন, আমার পরিবার এখন এই শিশু নগরি। এরাই আমার সব। আমরা কখনোই ভাবিনি আজকে সকালে আমাদের জন্য এমন চমক অপেক্ষা করছে। আমরা শীতের পিঠা পেয়ে খুবই আনন্দিত।
পঞ্চগড় আহছানিয়া মিশন শিশু নগরির সেন্টার ম্যানেজার দীপক কুমার রায় বলেন, আমাদের শিশু নগরির ১৬০ জন শিশুর বেশিরভাগই পথশিশু। এদের অনেকেই পরিচয়হীন। আমরা তাদের লেখাপড়ার মাধ্যমে সমাজের মুল স্রোতধারায় নিয়ে আসতে কাজ করছি। তরুণ এই সমাজকর্মী মতো পিঠার আয়োজন আমাদের শিশুদের আনন্দ দেয়। তারা দারুন উপভোগ করে। আমরা চাই সামাজিক সংগঠনগুলো এভাবেই পথশিশুদের পাশে দাঁড়াবে।
এড. আহসান হাবিব সরকার বলেন, আমি আজ সময়টুকু এতিম ও পরিচয়হীন শিশুদের সাথে দারুন উপভোগ করেছি। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমার ভালো লেগেছে।


















