Monday , 5 January 2026 | [bangla_date]

বিরলে ষাটর্ধ্বো পয়ন চন্দ্র-এর প্রায় দেড় যুগ ধরে ভাঙ্গাচুরা কুঁড়ে ঘরে মানবেতর জীবন যাপন

বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি। দিনাজপুরের বিরলে প্রায় দেড় যুগ ধরে ভাঙ্গাচুরা ছোট্র একটি কুঁড়ে ঘরে একাকি মানবেতর জীবন যাপন করছেন পয়ন চন্দ্র সরকার নামের ষাটর্ধ্বো এক অসহায় দুঃস্থ্য ব্যাক্তি। তার বাড়ি উপজেলার ৮নং ধর্মপুর ইউপি’র দক্ষিণ মেড়াগাঁও গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত ঝেচু চন্দ্র সরকারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, এক অসহায় দুঃস্থ্য পরিবারে পয়ন চন্দ্র সরকারের জন্ম। তাদের জায়গা জমি বলতে তেমন কিছুই ছিল না। তারা ছিলেন ৫ ভাই। এর মধ্যে ২ ভাই পরলোক গমন করেছেন। বাকী ৩ ভাই বেঁচে আছেন।
যুবক বয়সে পয়ন চন্দ্র সরকার বিয়ে করে এলাকার আর ১০ জনের মত সংসারের হাল ধরে ছিলেন। স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সুখী পরিবার গড়ার। তবে এই স্বপ্ন তার পূরন হয়নি। বিয়ের কিছু দিনের মধ্যে স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায় বাবার বাড়ি। আর ফিরে না আসায় তখন থেকে শুরু হয় পয়নের একাকি জীবন যাপন। বয়স ৩০ বছর পার হতে না হতেই নানান ধরনের অসুখ বাসা বাঁধে তার শরীরে । এরপর যতই দিন যায়, ততই অসুস্থ হতে থাকেন তিনি। সহায় নম্বল না থাকায় তিনি এক পর্যায় সম্পুর্নরুপে পরনির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এলাকার কেউ দয়া করে খাইতে দিলে আহার জুটে। অন্যথায় অনাহারে থাকতে হয় তাকে। এখন তাঁর বয়স ৬৩ বছর। অসুস্থ্য ও বার্ধ্যকের কারণে তিনি ঠিকমত হাঁটাচলা করতে পারেন না। কানে কম শোনেন এবং দৃষ্টি শক্তিও কমে গেছে অনেক । শরীরের বল শক্তি আগের মত না থাকায় এ বাড়ি ওবাড়ি গিয়ে নিজের খাবার টুকুও এখন আর জুটাতে পারেন না তিনি। ফলে প্রায় সময় অর্ধাহারে ও অনাহারে দিন কাটাতে হয় তাকে। এখন পরনির্ভতাই তার এক মাত্র সম্বল।
সম্প্রতি এলাকার কতিপয় উদ্যোগি যুবক তার এই করুণ অসহায়ত্বের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরে তার পক্ষে সাহায্য সহযোগিতা চাইলে বিষয়টি নেটিজেনদের নজরে আসে।
সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেড়াগাঁও পাকা সড়কের পাশে ৮ হাত দৈর্ঘ্য ও ৬ হাত প্রস্তের একটি ভাঙ্গাচুরা কুঁড়ে ঘরে বসবাস করেন এই পয়ন চন্দ্র সরকার। ঘরের চারিদিকে ভাঙ্গা টীনের বেড়া ও ভাঙ্গা টীনের ছাউনি। বৃষ্টির পানি ও শীত আটকানোর জন্য ভাঙ্গা টীনের ফাঁকে ফাঁকে কিছু ছেঁড়া ফাটা পলিথিন ও চট দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছে।
এসময় স্থানীয় বিলাশ চন্দ্র রায়, বিপ্লব চন্দ্র রায় ও নিরাঞ্জন চন্দ্র বর্মন জানান, পয়ন চন্দ্র সরকার একজন দারুণ অসহায় ব্যাক্তি। এমন অবস্থাতেও তিনি কোন সরকারি ভাতা পায়না। গ্রামের মানুষদের দয়ায় তিনি বেঁচে আছেন। আমরা তার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য সরকার, দানশীল ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
এব্যাপারে ধর্মপুর ইউপি সদস্য দুলাল চন্দ্র সরকার বলেন, পয়ন চন্দ্র সরকারকে সরকারি ভাবে সহযোগিতা করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। তবে, তার জাতীয় পরিচয় পত্রে বয়সের ক্রুটি রয়েছে। খুব শিঘ্রই সেটা সমাধান করে আমরা ব্যবস্থা নিব।

সর্বশেষ - ঠাকুরগাঁও

আপনার জন্য নির্বাচিত

জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাব মোকাবিলায় অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

হরিপুর সীমান্তে কিশোরকে নির্যাতন, মৃত ভেবে ফেলে গেল বিএসএফ সদস্যরা!

ঠাকুরগাঁওয়ে নানা আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস পালিত

বৈরী আবহাওয়ায় বীরগঞ্জে লিচু ফলন নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা

ঠাকুরগাঁওয়ে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা

দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাণীশংকৈলে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক বিতরণ

ঠাকুরগাঁওয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট নারীর মৃত্যু

গোলাম হোসেন সভাপতি, প্রভাত সমির সাধারণ সম্পাদক আজাদ স্পোটিং ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত

বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি পেলেন হরিপুরের কৃষক

বীরগঞ্জে ১ ভাটা মালিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২লাখ টাকা জরিমানা