মাঠে মাঠে এখন ধবধবে সাদা তুলা। সবুজ পাতার বুকে তুষারশুভ্র এ ফসলের হাসিতে দিনাজপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তুলা চাষ। অন্যান্য ফসলের চেয়ে উৎপাদন খরচ ও বিপর্যয়ের ঝুঁকি কম এমন উন্নত মানের তুলা দিনাজপুরে চাষ হচ্ছে।
অন্যদিকে বাজারে আশানুরূপ দাম পাওয়ায় দিন দিন তুলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন চাষিরা। সরকারি ঋণ, উন্নতমানের বীজসহ বাড়তি সুবিধা পেলে তুলা উৎপাদন করে দেশের চাহিদা অনেকাংশে মেটানো সম্ভব হবে। সম্ভাবনাময় তুলা অর্থকরী ফসল হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে বলে মনে করেন উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকতা।
দিনাজপুর আঞ্চলিক তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধন কেন্দ্রের অধীনে সদর উপজেলাসহ ৭টি উপজেলায় চাষিরা তুলা চাষ করছেন। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের এই খামারে চুক্তিবদ্ধ ও তালিকাভুক্ত চাষিদের মাধ্যমে মানসম্পন্ন তুলাজীব উৎপাদন, চাষিদের উন্নতমানের তুলাবীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা, ঋণ ও অন্যান্য উপকরণ প্রাপ্তিতে সহায়তা প্রদান, উন্নত প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, চাষিদের আগ্রহ সৃষ্টি ও উদ্বুদ্ধ করার কাজ করে যাচ্ছে। দেশের চাহিদার শতকরা মাত্র ১০ ভাগ উৎপাদিত হয়।বাকি ৯০ ভাগ তুলা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এক একর জমিতে তুলা চাষ করতে খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। প্রতি হেক্টর জমিতে এক দশমিক ৬ টন তুলা উৎপাদিত হয়। খামারে কর্মরত চাষী ও শ্রমিকরা প্রশিক্ষন সহ তুলা আবাদে ভুমিকা রাখছেন।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের এই খামারে চুক্তিবদ্ধ ও তালিকাভুক্ত চাষিদের মাধ্যমে মানসম্পন্ন তুলাজীব উৎপাদন, চাষিদের উন্নতমানের তুলাবীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা, ঋণ ও অন্যান্য উপকরণ প্রাপ্তিতে সহায়তা প্রদান, উন্নত প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, চাষিদের আগ্রহ সৃষ্টি ও উদ্বুদ্ধ করার কাজ করে যাচ্ছে।জন্য আলোচনা-সমাবেশ, তুলা চাষের জন্য উপযুক্ত জমি জরিপ, আগ্রহী চাষিদের তালিকাভুক্তকরণ, তুলাচাষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন ও গবেষণা বিষয়ক যে কোনো তথ্য প্রদান এই কেন্দ্রের অন্যতম কার্যক্রম ও সেবা।
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের তুলা গবেষণা বোর্ডের আওতাধীন একমাত্র প্রতিষ্ঠান দিনাজপুর আঞ্চলিক তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধন কেন্দ্রের অধীনে সদর উপজেলাসহ ৭টি উপজেলায় চাষিরা তুলা চাষ করছেন।
সমভূমিতে তুলা উৎপাদন বাড়াতে সহজ শর্তে সরকার গবেষণা কার্যক্রম জোরদার এবং চাষিদের ব্যাংক ঋণসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করলে উন্নত মানের তুলা উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাতীয় অর্থনীতিতে তারা অবদান রাখতে পারবেন বলে তুলা চাষিরা আশা করছেন।
বৈজ্ঞানিক কর্মকতা কৃষিবিদ শাহানা ইয়াসমিন জানান, বেলে-দোআশ মাটি তুলা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাভজনক এই পণ্যটি উৎপাদন করতে সময় লাগে ৬ মাস।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডএর উপপরিচালক জাফর আলী জানান মানসম্পন্ন তুলাজীব উৎপাদন, চাষিদের উন্নতমানের তুলাবীজ সরবরাহসহ বিভিন্ন উপকরণ প্রাপ্তিতে তুলা বোর্ড সহায়তা প্রদান করে আসছে। ১৯৭২ সালে তুলা উন্নয়ন বোর্ড গঠন হয়। ১৯৮২ সালে দিনাজপুরের তুলা উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ৩১ হেক্টরসহ জেলার ৭ উপজেলায় ২০৫ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হয়েছে।
















