ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃদিনাজপুর-৬ (ঘোড়াঘাট, হাকিমপুর, বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ) আসনে বিজয়ের আনন্দঘন মুহূর্ত আবেগে রূপ নিল অশ্রুসিক্ত দৃশ্যে। নির্বাচনে জয়লাভের পর নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা গ্রহণকালে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. জাহিদ হোসেন।
এ সময় তিনি স্মরণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-কে। তাঁর কথা উল্লেখ করতে গিয়ে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে, চোখে দেখা যায় অশ্রু।
শুক্রবার নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পাশে বসা তাঁর সহধর্মিণীকেও তাঁকে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়।
বক্তব্যে ডা.জাহিদ বলেন, শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন, গণতন্ত্রের মা, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথে আমাদের শতশত সহকর্মী শহীদ হয়েছেন, গুম হয়েছেন প্রায় আটশোর অধিক নেতাকর্মী। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করে এখনো দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে। পাখির মতো গুলি করে শহীদ করা হয়েছে নিরীহ মানুষকে। স্বৈরাচারের শেষ মুহূর্তে দেশের মানুষ যে দৃশ্য দেখেছে—আল্লাহর কাছে দোয়া করি, এমন দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি যেন আর কখনো না হয়।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, জনগণের রায়কে তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার হিসেবে দেখছেন। আমাদের ওপর দায়িত্ব এসেছে গণতন্ত্রকে পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠা করাসহ প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ও শক্তিশালী করা। দেশকে কর্তৃত্ববাদ থেকে রক্ষা করে সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে পরিচালিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য যোগ করেন তিনি।
তিনি শহীদ, গুম ও নির্যাতনের শিকারদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের ত্যাগ ও দেশপ্রেম অবশ্যই মূল্যায়িত হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারলেই তাদের আত্মা শান্তি পাবে।
সবশেষে দিনাজপুর-৬ আসনের সর্বস্তরের জনগণ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ডা.জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, “সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণেই এ নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এই আস্থা ও ভালোবাসা রক্ষায় আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

















