বিকাশ ঘোষ, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে চায়ের আড্ডা থেকে হাটবাজার-সবখানেই এখন ভোটের আলোচনা। মিছিল-সমাবেশ, মোটরসাইকেল শোডাউন ও গণসংযোগে মুখর ছিলো গোটা এলাকা।
দিনাজপুর–১(বীরগঞ্জ-কাহারোল) নির্বাচনী আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতিকের মো. মনজুরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের মোঃ মতিউর রহমানের মধ্যে। এছাড়াও এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর পক্ষে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এডভোকেট মো. চাঁন মিঞা, জাতীয় পার্টির পক্ষে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মোঃ শাহিনুর ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদ পক্ষে ট্রাক প্রতিক নিয়ে মো রিজুওয়ানুল ইসলাম এবং জাকের পার্টির পক্ষে গোলাপ ফুল প্রতীক নিয়ে রঘুনাথ চন্দ্র রায় নির্বাচনী লড়াইয়ের মাঠে রয়েছেন।
বিগত দিনে জোটগত নির্বাচন করলেও এবারে ভোটের মাঠে দুই দলই কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। ফলে জমে উঠেছিলো শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচারনা। প্রার্থীরা ও তাদের কর্মীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটাররে দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজের ও দলের বিভিন্ন প্রতিস্রুতি দিয়ে ভোট চেছেন নিজ নিজ প্রতীকে । সভা ,সমাবেশ, মাইকিং, স্লোগান আর ব্যানারে মুখরিত হয়ে উঠেছিলো সমগ্র এলাকা।
অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায় স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনে জামাতে ইসলাম কোন নির্বাচনেই এককভাবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলো না । তবে এবার নির্বাচনীয় মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় তাদের দুর্গ দখলে নিতে চায় বিএনপি ও জামায়াত। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সকল প্রার্থীরাই আওয়ামী লীগের ভোটারদের ভোট তাদের পক্ষে নেওয়ার বিভিন্নভাবে কলা কৌশল অবলম্বন করেছেন।
সরকারি ভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু ভোটের কোন পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও মোট জনসংখ্যার হার পর্যালোচনা করে পাওয়া যায় যে বীরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ২৭ পারসেন্ট ও কাহারোল উপজেলায় প্রায় ৪৬ পার্সেন্ট হিন্দু ভোটার রয়েছে। সেই হিসেবে এই আসনে মোট হিন্দু ভোটার সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার ।এবং ভোটের ফলাফলে এই সংখ্যালঘু ভোট একটি বিরাট প্রভাব বিস্তার করবে । অনলাইন পত্রিকা বীরগঞ্জ প্রতিদিন সম্পাদক ও নির্বাচনী বিশ্লেষক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, হিন্দু ভোটার উপস্থিতি এই নির্বাচনের ফলাফলে একটি বড় ফ্যাক্টর এবং প্রাথিদের শেষ মুহুর্তের কৌশলই দিনাজপুর-১ আসনের ভাগ্য নির্ধারন করবে।
সাধারন ভোটাররা মনে করছেন দীর্ঘদিন তারা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেনি। দিনের ভোট রাতেও মৃত ব্যক্তির ভোটও ফ্যাসিস্টদের দোশররা সীল মেরে দিয়েছিল। ফ্যাসিস্ট নেই এবার স্বাচ্ছন্দে নিজের ভোট পছন্দের প্রার্থীকে দিতে পারব। এলাকার উন্নয়নে এবং মানুষের সুখ-দুঃখে যারা পাশে থাকবেন তাদেরকে নির্বাচিত করবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। এখন শুধু অপেক্ষার পালা।
এই আসনে বীরগঞ্জ ও কাহারোল ২টি উপজেলা ও একটি পৌরসভা ১৭ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই দিনাজপুর-১ আসন। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ১১ হাজার ৭শত ৪৩ জন ও হিজড়া ২ জন। পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৫৮ হাজার ৩১ জন ও মহিলা ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৬৯ হাজার ১০ জন। বীরগঞ্জ উপজেলায় ভোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৭৪ হাজার ৮শত ৫৩জন। পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৩ শত ৬২ ও মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪শত ৯০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন। কাহারোল উপজেলা ভোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৮ শত ৯০ জন। পুরুষ ৬৮ হাজার ৪ শত ৬৯ জন ও মহিলা ৬৮ হাজার ৪ শত ২০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন। দুই উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৮ টি এর মধ্যে কাহারোল উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪৩ টি এবং বীরগঞ্জ উপজেলায় ভোট কেন্দ্রে সংখ্যা ৮৫ টি।
ফলে তরুণ ও হিন্দু ভোটাররাই এবার জয়ের মূল ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। এ আসনের তরুণ ভোটাররা বলছেন, যোগ্যতার মাপকাঠি বিবেচনা মাথায় রেখেই তারা জীবনের প্রথম ভোট দিতে চান। সবাই বলছেন, এবারের ভোট হবে উৎসবমুখর পরিবেশে হবে। তবে শরীফ ওসমান বিন হাদিসহ বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের কারণে নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ভোটাররা।


















