কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: নির্বাচনি জ্বরে কাঁপছে দিনাজপুর-১ আসনের গ্রামীণ জনপদ। প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণার শুরু হওয়ার আগে ও পর থেকে এখন পর্যন্ত মাঠে ঘাটে, চায়ের দোকানে বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে দোকানপাট ও বাড়ি বাড়ি এবং বিভিন্ন স্থাপনায় গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন ভোটারদের কাছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে নির্বাচনের প্রচারণা ও ভোট প্রার্থনা। প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা যার যার অবস্থান থেকে নির্বাচনের মাঠ চুষে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। প্রার্থীরা কোমরে গামছা বেঁধে খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে রাত-দিন অবিরামভাবে ভোটের প্রচারণা চালাতে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে নির্বাচনি জ্বরে কাঁপছে বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলার গ্রামীণ জনপদসমূহ। এই নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থীরা তাদের স্ব-স্ব অবস্থান ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি এবং ভোটারদের মন জয় করতে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে নির্বাচনে প্রচারণা চালিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। দেখা গেছে, দিনাজপুর-১ আসনে প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু হতেই ২টি উপজেলার রাজনীতিতে নেতা কর্মীদের মধ্যে গতি ফিরে এসেছে। মাইকিং শ্লোগান, আর ব্যানারে মুখরিত হয়ে উঠেছে গ্রামীণ জনপদের দুই উপজেলার হাট-বাজার, গ্রাম-মহল্লাগুলোতে। প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থ্যকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। দুই উপজেলার চায়ের দোকান, বাজারের মোড়ে মোড়ে দোকানে এখন চলছে নির্বাচনের আমেজ। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না থাকায় এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের নতুন করে আগ্রহ বাড়লেও তবে অধিকাংশ ভোটার এখনো নীরব স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নীরবতাই সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে নির্বাচনে স্থানীয় প্রার্থীদের পক্ষে। নীরব ভোটরই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর একটি বিষয় স্পষ্ট ভোটার কম কথা বলছেন: কিন্তু তবে ভোট নিয়ে তাদের আগ্রহ কম নেই। রাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ দিন ভোট না দিতে পারায় ক্ষোভ ও অন্যাচার শেষ মুহুর্তে ভোটের হিসেব পাল্টে দিতে পারে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনে বিএনপি ও জামায়াত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে নীরব ভোটার ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত এবং শেষ মুহুর্তের কৌশলই দিনাজপুর-১ আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। শীতের মৌসুমেও এই আসনে পুরোদমে বইছে নির্বাচনি গরম হাওয়া। বিএনপি ও জামায়াত সহ অন্যান্য দলের একাধিক প্রার্থী না থাকায় একক প্রার্থীরা জোড়ে সোরে চালাচ্ছেন নির্বাচনি প্রচারণা। দিনাজপুর-১ আসন (কাহারোল-বীরগঞ্জ) এই আসনে দুইটি উপজেলা ও একটি পৌরসভা ১৭ টি ইউনিয়ন নিয়ে এই দিনাজপুর-১ আসন। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ১১ হাজার ৭শত ৪৩ জন ও হিজড়া ২ জন। পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৫৮ হাজার ৩১ জন ও মহিলা ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৬৯ হাজার ১০ জন। বীরগঞ্জ উপজেলায় ভোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৭৪ হাজার ৮শত ৫৩জন। পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৩ শত ৬২ ও মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪শত ৯০ জন। হিজড়া ১ জন। কাহারোল উপজেলা ভোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৮ শত ৯০ জন। পুরুষ ৬৮ হাজার ৪ শত ৬৯ জন ও মহিলা ৬৮ হাজার ৪ শত ২০ জন। হিজড়া ১ জন। দুই উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৮ টি এর মধ্যে কাহারোল উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪৩ টি এবং বীরগঞ্জ উপজেলায় ভোট কেন্দ্রে সংখ্যা ৮৫ টি। দিনাজপুর-১ আসনে ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। এরা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি’র) প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ মনজুরুল ইসলাম মুনজু(ধানের শীষ প্রতীক), জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর প্রার্থী মোঃ মতিউর রহমান(দাঁড়িপাল্লা) প্রতীক, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোঃ শাহিনুর ইসলাম(লাঙ্গল) প্রতীক, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন এর প্রার্থী এডভোকেট চাঁন মিয়া(হাতপাখা) প্রতীক, জাকের পার্টির প্রার্থী রুঘুনাথ চন্দ্র রায়(গোলাপ ফুল) প্রতীক ও গণ অধিকার পরিষদ (জিওপি) প্রার্থী মোঃ রিজুওয়ানুল হক ইসলাম(ট্রাক) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনি গণসংযোগ, প্রচারণা ও উঠান বৈঠক জনসভা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। এদিকে সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, দীর্ঘদিন তারা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেনি। দিনের ভোট রাতেও মৃত ব্যক্তির ভোটও ফ্যাসিস্টদের দোসররা সীল মেরে দিয়েছিল। তবে ফ্যাসিস্ট তো নেই এবার স্বাচ্ছন্দে নিজেদের ভোট পছন্দের প্রার্থীকে দিতে পারব এবং এলাকার উন্নয়ন বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে যারা কাজ করবে তরুদের প্রথম ভোট তাদের পক্ষে যাবে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
















