দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতায় দ্বন্দে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের ছয়টি গভীর নলকূপ (সেচপাম্প) বন্ধ হয়ে পড়েছে। সেচের অভাবে বোরো ধানের জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ায় পানির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করেন উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের শিবনগর, পলিশিবনগর, মধ্যমপাড়া ও মহেষপুরসহ ছয় গ্রামের কৃষকেরা। পরে তাঁরা উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেন।
কৃষকেরা জানান, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ওই এলাকায় ছয়টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জমিদাতাদের মধ্য থেকে নিয়োগ পাওয়া অপারেটররা সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে ২০২৫ সালে অজ্ঞাত কারণে তাঁদের বাদ দিয়ে নতুন অপারেটর নিয়োগ দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই মালিকানা ও দায়িত্ব নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে নলকূপগুলোতে তালা ঝুলে যায়। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমানে পুরোপুরি সেচ বন্ধ থাকায় বোরো মৌসুমে ফসলহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মহেষপুর গ্রামের মো. খন্দকার আব্দুল মমিন (সোনা) দাবি করেন, তিনি ১০বছর ধরে গভীর নলকূপের অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন এবং পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। এ বিষয়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সেচ কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করেও সুরাহা পাননি। তিনি বলেন, একইভাবে অন্য অপারেটরদেরও বাধা দিয়ে নতুনদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে ২০২৫ সালে নতুন করে নিয়োগ পাওয়া অপারেটর মহেষপুর গ্রামের মেহেদী হাসান বলেন, সরকারি নিয়ম মেনেই তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সাবেক অপারেটরদের দাবি,গভীর নলকূপগুলো তাঁদের নিজস্ব জমিতে স্থাপন করা হয়েছে এবং আওতাধীন আবাদি জমির বড় অংশ তাঁদের ও তাঁদের পরিবারের মালিকানাধীন।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ফুলবাড়ী কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী শামিম হোসেন বলেন, পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকার কারণে আগের অপারেটরদের নিয়োগ বাতিল করা হয় এবং নতুন অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সেচ কমিটির সভাপতি আহম্মেদ হাসান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

















