তেতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি :
দেশের উত্তরের পঞ্চগড় জেলা তেঁতুলিয়া উপজেলার মাগুড়া গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম অন্যের জমি লিজ নিয়ে বিদেশী জাতের প্রায় ৩০ প্রজাতির সবজি চাষ করে আসতেছেন প্রায় ১৫/২০ বছর ধরে । সাইফুলের আবাদকৃত সবজির মধ্যে আইসবাগ লেটুস, ব্রকুলি, রেড ক্যাফেস, রোমান, সিলারি পাতা, ক্যাপসিকাম, পাসলি, ব্রকলি, রেড ক্যাবেজ চাইনিজ ক্যাবেজ সহ প্রায় ৩০ টি সবজি চাষ করে আসছে । এসব সবজির বীজ ঢাকা থেকে সংগ্রহ করে তেঁতুলিয়ার এই সীমান্ত এলাকায় চাষ করে আসতেছেন প্রায ১৫/২০ বছর থেকে। বিদেশি জাতের সবজি চাষ করে তিনি ব্যাপক সাফল্য পেয়ে হয়েছেন স্বাবলম্বী।
এই সবজি চলে যাচ্ছে ঢাকার সোনারগাও শেরাটন সহ
বিভিন্ন নামি দামি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও সুপারশপে। খরচ বাদে মাসে ৪০/৫০ হাজার টাকা এবং বছরে প্রায় ৫/৬ লাখ টাকা আয় হয়।
তিনি জানান, সাভারে বিদেশি সবজির চাষ হয় এমন একটি খামারে সাইফুল ইসলাম কাজ করেছিলেন। সেখানেই তিনি এই সবজির চাষপদ্ধতি শেখেন। পরে বাড়ি ফিরে নিজেই সবজি চাষ শুরু করেন। তিনি আরো বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে বিদেশি সবজির বাজার না থাকায় প্রথম ১/২ বছর সমস্যায় পড়েছিলাম। তবে এখন আর কোন ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নামি দামি সবজি ব্যবসায়ীরা অগ্রিম টাকা দিয়ে সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এখানকার বেলে-দোআঁশ মাটি এবং আবহাওয়া বিদেশি সবজি চাষের উপযোগী। খুব কম সময়ে এখানে তরতাজা সবজি উৎপাদন করা যায়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করলেও চলে।
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ১৫ বিঘা জমিতে সবজি চাষ করে যা খরচ হয়। খরচ বাদে প্রতি মাসে ৫০ হাজার তার আয় হয়। দৈনিক ১২-১৪ জন দিনমজুর নিয়মিত কাজ করেন। এই টাকা দিয়ে দুই সন্তানকে পড়াশোনা করাচ্ছি। আগে কুঁড়েঘর ছিল, এখন পাকা বাড়ি হয়েছে। বিদেশী জাতের সবজি চাষের প্রশিক্ষণ না থাকায় অন্য কৃষকেরা এ সবজি চাষে তেমন আগ্রহী হচ্ছেন না।
তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন বলেন, এখানকার জমি খুবই উর্বর এবং আবহাওয়া অনুকুল হওয়ায় এখানে বিদেশি সবজি আবাদের জন্য উপযোগী। সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাতের সবজি উৎপাদন করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁকে সার্বক্ষনিক সহযোগিতা করে আসছে ।















