দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কৃষিপণ্য কাটারী ভোগ চাল ও লিচুকে বিশ্ববাজারে পরিচিত করার দৃঢ প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দিনাজপুর শুধু দেশের খাদ্যভাণ্ডার নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিশক্তির অন্যতম প্রতিনিধি হওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে।
শনিবার বিকেল ৩টায় দিকে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাটি উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
দিনাজপুরের কৃষিসম্পদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানকার মাটি অত্যন্ত উর্বর এবং মানুষ পরিশ্রমী। কাটারী ভোগ চালের সুগন্ধ ও স্বাদ যেমন অতুলনীয়, তেমনি দিনাজপুরের লিচু দেশের অন্যতম সেরা ফল।এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য কৃষির সঙ্গে শিল্পায়নের সমন্বয় জরুরি। দিনাজপুরের বিশ্বখ্যাত লিচু ও কাঠারিভোগ চালের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিনাজপুরের লিচু শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে পরিচিত। অথচ আজও আমরা লিচু প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারিনি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দিনাজপুরে আধুনিক হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। এতে লিচু সংরক্ষণ ও রপ্তানি সহজ হবে এবং কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবে। একইভাবে কাঠারিভোগ চাল রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় শিল্পকারখানা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে নানি বাড়ির মানুষের কাছে ভোট চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসময় তিনি বলেন, নাতি এলো কিন্তু কিছু খাওয়ালেন না, এইটা কেমন হলো ! নাতিকে কী দেবেন ? ভোট দেবেন ? কীসে ভোট দেবেন ? ধানের শীষে ভোট দেবেন। দিনাজপুরের মানুষের প্রথম ফসল ধান। সেই ধানের শীষে ভোট চাইছি।
তারেক রহমান বলেন, এ এলাকার উন্নয়ন হয়নি। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন উন্নয়ন করেছে। ক্ষমতায় এলে কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হবে। দিনাজপুরের লিচুকে বিদেশে রফতানির ব্যবস্থা করা হবে। তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়া তোলা হবে। মা-বোনদের শিক্ষা ফ্রি করে দিয়েছিলেন এ এলাকার সন্তান খালেদা জিয়া। এই নারীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের মালিকদের সামনে পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছি। আপনাদের পরিকল্পনা জানতে চাই। ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করলে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব।
নারীদের উন্নয়নে দলের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এ দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে নারীদের বড় অবদান রয়েছে। আমরা নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করব, যার মাধ্যমে তারা ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন। বিএনপিকে ভোট দিলে নারীরা ও মায়েরা নিরাপদে জীবনযাপন ও কাজকর্ম করতে পারবেন।
কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়ন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নারীদের পাশাপাশি কৃষক ভাইদেরও আমরা স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলবো। প্রত্যেক কৃষককে আমরা একটি করে কার্ড দেবো। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে ঋণ ও সরকারি সারসহ অন্যান্য সুবিধা পাবেন। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে আমরা সব কৃষকের ১০হাজার টাকা মূল্যের কৃষি ঋণ মওকুফ করবো। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র ঋণও সরকারের পক্ষ থেকে শোধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।
তিনি বলেন, সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই, যার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা জীবন দিয়েছেন, জুলাই যোদ্ধারা জীবন দিয়েছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পরবর্তী কাজ হবে, দেশ পুনর্গঠন করা।
এ সময় আজ সব ধর্মের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, তিনি দেশ ছেড়ে যাননি। সেটি হোক আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সব সময় বলতেন-বাংলাদেশই আমার প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই আমার শেষ ঠিকানা। আমরা বিশ্বাস করি, বিএনপির সব নেতাকর্মীর শেষ ঠিকানাও এই বাংলাদেশ।
জনসভায় দিনাজপুরের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দিনাজপুর-৬ আসনের প্রার্থী ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ জেলা ও উপজেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে বিএনপির চেয়ারম্যান নীলফামারীর জনসভা শেষ করে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দিনাজপুরের বিরামপুরে পৌঁছান।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় ২০বছর পর দিনাজপুরে এলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আসাতে নেতা-কর্মীদের মাঝে উচ্ছাস প্রকাশ পায়। শনিবার সকাল ১১টার পর থেকে সভাস্থলে মানুষ আসতে শুরু করেছে। পরে কানায় কানায় সমাবেশ স্থল মাঠ পরিপূর্ন হয়ে যায়।
এর আগে ২০০৫ সালের ৪ সেপ্টম্বর দিনাজপুরে খানসামায় জিয়া সেতুর উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে তারেক রহমান এসেছিলেন।

















