বিকাশ ঘোষ, বীরগঞ্জ( দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা জুড়ে এখন আমের মুকুলের সমারোহ। উপজেলার গ্রাম থেকে শহর সবখানেই আমগাছে ফুটেছে সোনালি মুকুল। মুকুলের মিষ্টি সুবাসে ভরে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ, যা প্রকৃতিপ্রেমী ও কৃষকদের মনে এনে দিয়েছে নতুন আশার বার্তা। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের আলো পড়তেই গাছ ভর্তি মুকুল যেন সোনালি আভায় ঝলমল করে ওঠে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পাল্টাপুর, নিজপাড়া,সাতোর, ভোগনগর ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারের গাছ এবং বাণিজ্যিক আম বাগানে মুকুলে ছেয়ে গেছে ডালপালা।
স্থানীয় চাষি কুদ্দুস আলী জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় মুকুলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি, গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত, আশ্বিনা, বারি-৪, বারি-১১ ও হারিভাঙ্গা জাতের আমগাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। অনেক বাগান মালিক ইতোমধ্যে গাছে প্রয়োজনীয় স্প্রে ও পরিচর্যা শুরু করেছেন, যাতে মুকুল ঝরে না পড়ে এবং ফলন ভালো হয়।
বসত বাড়িতে আম চাষী মো.হামিদুল ইসলাম জানান গত বছরের তুলনায় এ বছর গাছে মুকুল বেশি এসেছে। যদি শিলাবৃষ্টি বা অতিরিক্ত ঝড় না হয়, তাহলে ভালো ফলনের আশা করছি।
বীরগঞ্জ উপজেলার আমচাষি মোঃ মিলন বলেন, ‘খরার কারণে আমের মুকুল অনেক পরিমাণে ঝরে যাচ্ছে। যার কারণে গাছ থেকে আম কমে যাচ্ছে। গাছগুলোতে আমের মুকুল অনেক এসেছিল, কিন্তু প্রয়োজনমতো বৃষ্টি না হওয়ার কারণে অনেক মুকুল রোদে পুড়ে ঝলসে গেছে। এমন আবহাওয়া চলতে থাকলে আমের বাগানে লোকসানের শঙ্কায় থাকতে হবে।’ এসব কারণে অধিকাংশ গাছ আমশূন্য হয়ে পড়ছে। বর্তমানে তাপদাহের কারণে আমগাছে সেচ ও কীটনাশকের মিশ্রন স্প্রে করেও গুটি টেকানো যাচ্ছে না।’
বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, বীরগঞ্জ উপজেলায় আম গাছগুলোতে মুকুল আসতে শুরু করেছে। চলতি আম মৌসুমে এবার উপজেলায় ৩ শত ১৭ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। বাগানের সংখ্যা ৪৯৫টি। এছাড়াও উপজেলার প্রায় বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে আমের গাছ রয়েছে।
প্রায় গাছে আমের মুকুল এসেছে। আমরা আম বাগান চাষিসহ বসতবাড়িতে থাকা আম গাছ মালিকদের সেবা দিয়ে আসছি।
তিনি আরও বলেন, মুকুল আসার এ সময়ে পাউডারি মিলডিউ, অ্যানথ্রাকনোজসহ বিভিন্ন রোগ ও পোকার আক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই পরামর্শ অনুযায়ী ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক প্রয়োগ, সুষম সার ব্যবহার, সেচ ব্যবস্থাপনায় সতর্ক থাকতে হবে এবং গাছের যত্ন নেওয়ার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া শুরু করেছি।
আম চাষিদের যাতে আমের ভাল ফলন হয় সেই জন্য কৃষি অধিদপ্তর থেকে তাদের বিভিন্ন ভাবে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬০ জন আম চষিকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
আম প্রেমীরা জানান,
আমের মুকুলে ভরা বীরগঞ্জের প্রকৃতি এখন এক মনোমুগ্ধকর রূপ ধারণ করেছে। সন্ধ্যার বাতাসে ভেসে আসে মুকুলের ঘ্রাণ, যা পথচারীদের মনেও ছড়িয়ে দেয় প্রশান্তি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অনুকুল আবহাওয়া বজায় থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে।
এতে স্থানীয় বাজারে আমের সরবরাহ বাড়বে, কৃষকরা পাবেন ন্যায্য মূল্য এবং অর্থনীতিতেও আসবে ইতিবাচক গতি। গ্রীষ্মের রসালো আমের অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছেন


















