রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) ॥ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল রামরাই দীঘিতে(রাণী সাগর) শীত এলেই যেন চলে আসে নানা প্রজাতির পাখি। দেশের নদ-নদী, হাওড়-বাঁওড়ের ভালোবাসার টানে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে রামরাই দীঘিতে এসেছে এসব পাখি। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাখি ও জলাশয়ের প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে রামরায়ে। এসব পাখি দেখতে যেমন সুন্দর, ঠিক তেমনই আকর্ষণীয় তাদের কলকাকলি। পাখিদের মুহুর্মুহু কলতানে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে পাখির স্বর্গরাজ্যে। প্রাচীন ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন রামরায় দীঘি বরেন্দ্র ভূমির প্রাচীন জলাশয়গুলির মধ্যে আয়তনে দ্বিতীয় বৃহত্তম। এটি রাণীশংকৈল উপজেলা থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। পুকুরটি ১৮.৩৪ একর উচ্চ পাড় ও ২৩.৮২ একর জলভাগসহ মোট ৪২.২০ একর বিশিষ্ট। পুকুরটির দৈর্ঘ্য (উত্তর-দক্ষিণ) ৯০০ মিটার ও প্রস্থ (পূর্ব-পশ্চিম) ৪০০ মিটার। এর সঠিক ইতিহাস এখনো জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে দীঘিটি ৫ শত থেকে ১ হাজার বছরের পুরনো হতে পারে। একসময় এই দীঘি ছিল এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের পানির চাহিদা পূরণের প্রধান উৎস। ২০০২ সালে রামরাই দীঘির নামকরণ করা হয় রানী সাগর, তবে লোকমুখে এটি রামরাই দীঘি নামেই পরিচিত। এর চারপাশে প্রায় ১,২০০ এর অধিক লিচু গাছসহ বিভিন্ন গাছ লাগানো হয়েছে। চারিদিকে সবুজের সমারোহ আর দীঘির টলটলে জলরাশি মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের। প্রতি বছর শীত মৌসুমে ডিসেম্বরের শেষের দিকে ও জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে উত্তর মেরু, ইউরোপ, সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, হিমালয়য়ের পদদেশ, তিব্বত অঞ্চল থেকে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি আসে। সাদা বক, বালিয়া, পানকৌড়ি, ঘুঘু, সারস, রাতচোরা, গাংচিল, পাতিহাঁস, বুনোহাঁস, খঞ্জনা, ওয়ার্বলার, হাড়গিলা, স্নাইপ বা কাদাখাঁচা, কোকিল প্রভৃতি হাজার হাজার পাখির আগমনে দীঘির সৌন্দর্য বেড়ে যায়। গরমের সময় শুরু হয়েছে পাখিগুলো চলে যাবার সময় হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অতিথি পাখির ঝাঁক থাকে। সন্ধ্যা নামলেই দিঘীপাড়ের লিচু বাগানে আশ্রয় নেয় এসব পাখি। পাখিদের এই কলতানের টানে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন পাখি প্রেমী পর্যটকরা। পাখিরা সাধারণত খাদ্যের প্রাচুর্যের কারণে এখানে আসে এবং মার্চ মাসের শেষে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যায়।
উপজেলা পরিষদ দর্শনার্থীদের জন্য রামরায় দীঘিতে ইতিমধ্যেই নান্দনিক রূপ দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। দীঘির পাড়ে বসার জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি ছাতার ছাউনি,বসার মাচা, একটি বড় নৌকা, একটি ছোট নৌকা, ২টি ছোট বাচ্চাদের জন্য। একটি কাঠের সেতু,রয়েছে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের রাত্রিযাপনের ঘর,এবং তৈরি করা হয়েছে মুক্ত মঞ্চ। ঘুরতে আসা দর্শনার্থী পাখিপ্রেমী মিলা চৌধুরী বলেন, রামরায় দীঘিটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পর্যটন কেন্দ্র। এখানে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তার প্রয়োজন। রামরায় দীঘির কেয়ারটেকার এনামুল বলেন, শীতের সময় পাখিগুলো বিভিন্ন এলাকা থেকে আসে এপুকুরে – গরমের সময় শুরু হয়েছে পাখিগুলো আবার চলে যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাজিদা বেগম বলেন, রামরায় দিঘীর উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। পাড়ের মাঝে রাস্তা তৈরি করতে সিসি ঢালায় কাজ চলমান। তাছাড়া অতিথি পাখির দিকে আমরা নিয়মিত নজর রাখছি। পাখি শিকারের কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি পাখি শিকার করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

















