দিনাজপুরের ৬টি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফলে ঐতিহাসিক বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছে।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিপুল ভোটারের উপস্থিতি। বিশেষ করে নারী ও সনাতন ধর্মীয় ভোটারদের উপস্থিতি নজর কেড়েছে সর্বস্তরের জনগণের। ভোর থেকে ভোটারদের লাইন ধরে ভোট দিতে দেখা গেছে। অনেকে সপরিবারে ভোট দিতে আসেন। প্রথমবারের মতো ভোট দিয়ে তরুণ ভোটাররা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। আবার অনেকে জানিয়েছেন, ২০০৮ সালের পর এবারই তাঁরা ভোটকেন্দ্রে এসেছেন। দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে ভোটারদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
রাতেই দিনাজপুরের ৬টি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম শুক্রবার রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পাঁচটি আসনে এবং একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ভোট পড়েছে শতকরা ৭০-৭৫ভাগ।
দিনাজপুর-১ আসন: ১২৯টি কেন্দ্রের সবকটির ফলে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম (ধানের শীষ) ১লাখ ৭৯ হাজার ৩১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মতিউর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৮১ ভোট।
দিনাজপুর-২ আসন: ১১৬টি কেন্দ্রের ফলে বিএনপির সাদিক রিয়াজ চৌধুরী (ধানের শীষ) ১ লাখ ৩৯হাজার ৬২২ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী একেএম আফজালুল আনাম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৮৮৭ ভোট।
দিনাজপুর-৩ আসন:১৩১টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম (ধানের শীষ) ১ লাখ ৪০ হাজার ৬০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট মাইনুল আলম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৩৯ ভোট।
দিনাজপুর-৪ আসন:১৩১টি কেন্দ্রের ফলে বিএনপির আখতারুজ্জামান মিয়া (ধানের শীষ) ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী আফতাব উদ্দীন মোল্লা (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৬ ভোট।
দিনাজপুর-৫ আসন:১৪২টি কেন্দ্রের ফলাফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী এজেডএম রেজওয়ানুল হক (তালা প্রতীক), যিনি বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করে ১লাখ ১৪হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির ডা. আব্দুল আহাদ (শাপলা কলি) পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৫ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার একেএম কামরুজ্জামান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৫৪৪ ভোট।
দিনাজপুর-৬ আসন: ২০০টি কেন্দ্রের সবকটির ফলে বিএনপির ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন (ধানের শীষ) ২লাখ ৫হাজার ১১৮ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনোয়ারুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৭০৩ ভোট।
জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপির জয় দলটির সাংগঠনিক শক্তির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এখানে হ্যা ভোট জয়ী হয়েছে।
বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৮৯ পেয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ মো. মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. মতিউর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৮ ভোট।
এ ছাড়া জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকে শাহিনুর ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ৫১৫, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকে আইনজীবী মো. চাঁন মিঞা পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৪, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে মো. রিজুওয়ানুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৯৩ ও জাকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকে রঘুনাথ চন্দ্র রায় পেয়েছেন ২ হাজার ২৬২ ভোট।
লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলেন ডা. জাহিদ
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানায়, দিনাজপুর-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন তার নিজ এলাকা মতিহারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় নবাবগঞ্জ উপজেলার মতিহারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি তার ভোট প্রদান করেন। ভোট শুরুর আগেই তিনি কেন্দ্রে উপস্থিত হন এবং সকাল সাড়ে ৭টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ভোট কক্ষে প্রবেশ করেন। ভোট প্রদান শেষে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে ভোটের পরিবেশ, নিরাপত্তা ও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটের সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। এ পরিবেশে ভোট গ্রহণ চললে এবং ভোটাররা কোন প্রকার বাধা ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে আসলে আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে ইনশাআল্লাহ।

















