কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: আম লিচুতে ভরপুর, জেলা মোদের দিনাজপুর। এই বাক্যগুলো এখন সারাদেশের মানুষের কাছে সু-পরিচিতি বহন করে আসছে দিনাজপুর জেলার নাম। আর এই দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার গ্রামীণ জনপদে যাচ্ছেন বিএপির চেয়ারম্যান ও প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আগামীকাল ১৬ মার্চ দিনাজপুর জেলার অবহেলিত কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বলরামপুর সাহাপাড়া নামক স্থানে ১২কি:মি: খালপুনঃ খনন কাজের মাধ্যমে সারাদেশে একযোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন ওইদিন। বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এই প্রথম দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলায় আগমন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুর জেলায় সফরে আসায় কাহারোল উপজেলা তথা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারি, রংপুরসহ রংপুর বিভাগের তৃণমুল পর্যায় থেকে জেলা শহর ও বিভাগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদল (বিএনপির) নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও চাঞ্চল্যকর পরিবেশ। এই উপজেলা ও এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং রংপুর বিভাগের সাধারণ মানুষের মনেও দেখা দিয়েছে বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দ উল্লাস। দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফরে আসার ফলে দিনাজপুরের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সকল শ্রেণির মানুষজনের মনে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎফুল্ল্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীঅঞ্চলে সফরে আসায় এই উপজেলাবাসী তাকে আন্তরিক অভিবাদন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে কাহারোল উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নিকট কিছু দাবি-দাওয়াও জানানো হয়েছে।
এদিকে প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলায় সফরে আসা উপলক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও বিভিন্ন দপ্তরের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ন-সচিব, পুলিশ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ মনজুরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা গত ১৫ দিন পূর্ব থেকে প্রধান মন্ত্রীর আগমন ও খাল পুনঃ খনন কর্মসূচীর উদ্ধোধন স্থান ও এলাকা প্রতিনিয়ত পরিদর্শন করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাহারোলে সফরকে ঘিরে অত্র উপজেলায় এখন সাজ-সাজ বর বর বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই দিন দুপুর ২ টার সময় উপজেলা সদরে অবস্থিত রামচন্দ্রপুর মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
দাবীসমূহ হচ্ছে, অত্র উপজেলার সকল কাঁচা রাস্তাঘাট পাকাকরণ, বাইবাস সড়ক নির্মাণ, কাহারোল উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে রূপান্তরিত করা, কাহারোল উপজেলা সদরকে পৌরসভার আওতায় অন্তর্ভূক্তকরণ,কাহারোল উপজেলায় একটি সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ নির্মাণ,মিনি স্টুডিয়াম নির্মাণ, কাহারোল গরুর হাটটি সম্প্রসারণ করন, উপজেলা সদর থেকে ধুকুরঝাড়ি ভায়া বিরল স্থলবন্দর পর্যন্ত রাস্তা প্রসস্থকরণ ও উন্নয়নকরণ, অত্র উপজেলায় ভারী কলকারখানা নির্মাণ ও গার্মেন্টস শিল্প স্থাপন, কুটির ও হস্তশিল্প স্থাপন, দিনাজপুর সদরসহ কাহারোল উপজেলায় গ্যাস সরবরাহ করণ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০/১০০ শয্যা বিশিষ্টকরণ, অত্র উপজেলায় কৃষি চাষাবাদ বেশি হওয়ায় সারের পরিমাণ বৃদ্ধি করণ ও ভুট্টা সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা, মাছ চাষ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সরকারি খাস পুকুর ও জলাশয়গুলো অতি দ্রুত খনন করণ, কাহারোল সরকারি কলেজের ভবন ও ছাত্র-ছাত্রীদের ছাত্রাবাস নির্মাণ, কাহারোল রামচন্দ্রপুর মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন ও ছাত্রবাস নির্মাণকরণ, উপজেলাবাসী পুলিশি সেবা পেয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে কাহারোল থানায় জনবল বৃদ্ধি ও গাড়ি সরবরাহ, দিনাজপুর জেলায় পেডি স্যাইলো নির্মাণকরণসহ বিভিন্ন দাবী সমূহ।
কাহারোল উপজেলার পরিচিতি: ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যাঃ ৬টি, মৌজার সংখ্যা-১৫৩টি, গ্রামের সংখ্যা-১৫২টি, আয়তনের দিক থেকে ২০৫.৫৪ বর্গ কি:মি:, সংখ্যা-(২০১৫ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী)-১লক্ষ ৬২ হাজার ৫শত জন, খাস পুকুরের সংখ্যাঃ ২১৪টি, ১টি সরকারি কলেজ, ১টি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়-৪৪টি, এর মধ্যে ৯টি বালিকা বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা-১২০টি ও ১টি শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সংখ্যা ২২টি। মসজিদের সংখ্যা-৪২১টি, মন্দিরের ২৭২টি, গীর্জার সংখ্যা-২টি, হাট বাজারের সংখ্যা ২০টি, অর্থকারী ফসল ধান, গম, ভুট্টা, আখ ও রবিশস্য ইত্যাদি, দর্শনীয় স্থান শ্রীশ্রী ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দির, ঐতিহাসিক নয়াবাদ জামে মসজিদ ও মোহাম্মদপুর পুরাতন জামে মসজিদ। উপজেলা পরিষদটি উচিৎপুর মৌজায় ১১.৩৮ একর জমির উপর অবস্থিত, ১টি সরকারি হাসপাতাল, সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিক ১৯টি, বে-সরকারি ক্লিনিক ৪টি, নিবন্ধিত এনজিও’র সংখ্যা ২৫টি, ফায়ার সার্ভিস ১টি, হাইওয়ে ৭.৫ কি:মি:, পাকা রাস্তা ১৬৮.৮৮কি:মি: কাচা রাস্তা ২৮৫.৯২ কি:মি: নদীর সংখ্যাঃ ২টি(পূণর্ভবা ও ঢেপানদী), খালের সংখ্যা-১টি(লক্ষিন্দর পুকুর)।

















