মোরশেদ-উল-আলম, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আমেনা বাকি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের এক নারী কর্মীকে গণধর্ষনের ঘটনা ঘটলেও কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে ঘটনা ধামাাচাপা দিতে ওই নারী কর্মীকে চাকুরীচুত্য করার অভিযোগ উঠেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, আমেনা বাকি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের মহিলা আবাসিক ছাত্রীনিবাসে দীর্ঘদিন যাবত পার্শ্ববর্তি ভোলানাথপুর গ্রামের জনৈক নারী কর্মী কাজ করে আসছিলেন। একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কৃষ্ণ চন্দ্র রায়, তোফাজ্জল, মোস্তাকিম, মেনহাজুল ইসলাম ওই স্কুলের ২ নং গেটের পাশের ভবন ডাঃ আমজাদ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর সিঁড়ির রুমে ওই নারীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপুর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তিতে ভয় দেখিয়ে প্রায়ই ধর্ষন করে। ঘটনাটি স্কুলের মহিলা শিক্ষক রুমানা বেগমসহ কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা বিষয়টি গোপন রাখতে ওই নারীকে চাপ দেয়। অভাবের তাড়নায় চাকুরী হারানোর ভয়ে ওই নারী ধর্ষনের ঘটনাগুলি গোপন রাখে। এক পর্যায়ে ওই নারী অন্তস্বত্তা হয়ে পড়লে ধর্ষকরা কৌশলে ওই নারীকে ঔষধ খাওয়াইয়া ভ্রুণ নষ্ট করে। এরপর ধর্ষনের পুনরাবৃত্তি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্কুলে কানাঘুষা শুরু হলে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভূক্তভোগি নারী কর্মীকে চাকুরীচুত্য করা হয় এবং ধর্ষকদের বহাল তবিয়তে রেখে পুরস্কৃত করা হয়।
এ ঘটনায় ভূক্তভোগী ওই নারী জানান, হুমকি দিয়ে দফায় দফায় একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় তাকে। ধর্ষকরা ঔষধ খাওয়াইয়ে এবরশনও (ভ্রুণ নষ্ট) করে। আগেও এমন পাষবিক নির্যাতন করেছে তাকে। রুমানা ম্যাডাম, আতিক স্টাফকে বার বার অভিযোগ দেয়া স্বত্ত্বেও তারা কর্ণপাত না করে তাকেই চাকুরীচুত্য করে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। এখন মামলা না করার জন্য ও সাংবাদিকসহ কাউকে কোন কিছু না বলার জন্য রুমানা ম্যাডামসহ অন্যরা চাপ ও হুমকি দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে আমেনা বাকি রেসিঃ মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ লেঃ কর্ণেল শাহাবুদ্দিন আহমেদের মুঠোফোনে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। অতঃপর হোয়াটস অ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে একাধিকবার বক্তব্য নেয়ার নেয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি মেসেজ দেখেও কোন উত্তর দেননি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেহা তুজ জোহরা বলেন, তাকে কেউ জানায়নি। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত পূর্বক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুন নবী বলেন, ভুক্তভোগি ওই নারী থানায় এজাহার বা অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


















