পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদীঘি ইউনিয়নের কুচিয়া মোড় ও বন্দরপাড়া এলাকায় মামা-ভাগিনা খালের ওপর নির্মিত স্লুইসগেট সেতুটি গত ছয় মাস ধরে ভেঙে পড়ে আছে। ভেঙে গেছে সেতুর উভয় পাশের সংযোগ সড়কও। ফলে ওই এলাকার অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, গত ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট রাতে ভারী বর্ষণ ও প্রবল স্রোতে সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায় এবং একই সঙ্গে স্লুইসগেটটি দেবে যায়। ২০০৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কুচিয়ামোড়-তালমাচ্ছপাড়া উপপ্রকল্পের আওতায় এটি নির্মাণ করেছিল। দীর্ঘ সময় সংস্কার না হওয়ায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে এটি এখন চলাচলের অনুপযোগী।
সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ায় ওই অঞ্চলের কৃষিপণ্য পরিবহন এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম জানান, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আমরা সীমাহীন কষ্টে আছি। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে অনেক পথ ঘুরে যেতে হয়। কৃষিপণ্য নিয়ে বাজারে যাওয়াও এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খালের ওপর একটি অস্থায়ী কাঠের সেতু নির্মাণ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাঠের সেতুটি প্রায়ই দুলছে এবং মাঝেমধ্যে ভেঙে পড়ছে। ছোট শিশু ও যানবাহন নিয়ে এই নড়বড়ে সেতু দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ জামান জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি ইতিমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নতুন সেতু নির্মাণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।’

















