তেতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি :
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও দায়িত্ব পালনে অনৈতিক বাধার অভিযোগ তুলেছেন শালবাহান হাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম। চেয়ারম্যানের দাবি, কোনো আনুষ্ঠানিক বহিষ্কারাদেশ ছাড়াই তাঁকে পরিষদে বসতে নিষেধ করছেন ইউএনও। অন্যদিকে ইউএনও বলছেন ফৌজদারি মামলায় আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় সুবিচার চেয়ে রোববার (১৫ মার্চ) সকালে ইউনিয়নের শতশত জনতাকে ইউনিয়ন পরিষদে আসার আহবান জানান ইউপি চেয়ারম্যান। তার আহবানে শতশত ইউনিয়নের বিভিন্ন বয়সী ইউনিয়ন বাসী উপস্থিত হলে তাদের সামনে ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেন। ইউনিয়নের নাগরিক সেবার চিত্র তুলে ধরে কোন প্রকার ঘুষ, লেনদেন করেননি চেয়ারম্যান, অনেক সময় ইউনিয়নের কেউ অসুস্থ্য হলে কিংবা দূর্ঘটনায় শিকার হলে অ্যাম্বুলেন্সে নিজে ড্রাইভিং করে হাসপাতালে পৌছায় চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা প্রদান করার কথা তুলে ধরলে ইউনিয়নের উপস্থিত শত শত জনতা চেয়ারম্যান হিসেবে তাকেই চান বলে জানান
এর আগে উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গত শুক্রবার শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেন ভুক্তভোগী ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম। পরে তিনি রাতেই বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ তুলে ধরেন। ফেসবুক লাইভের পর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে ।
চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ষড়যন্ত্র মুলক কয়েকটি মামলায় ৮৫ দিন কারাভোগের পর গত ৫ মার্চ তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর ৮ মার্চ জেলা প্রশাসক ও ইউএনও বরাবর যোগদানপত্র দিয়ে তিনি নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন। এমনকি ১১ মার্চ তাঁর নামে ভিজিডি (ভিজিবি) চালের ডিও-ও ইস্যু হয়। তবে সম্প্রতি টিসিবি ও ভিজিএফ চাল বিতরণের ক্ষেত্রে ইউএনও চেয়ারম্যান কে এড়িয়ে পরিষদের প্রশাসনিক (সচিব)কর্মকর্তার নামে ডিও দিয়েছেন, যা আইনের পরিপন্থী।
চেয়ারম্যান আরও অভিযোগ করেন, ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু তাঁকে মৌখিকভাবে পরিষদে না আসার নির্দেশ দিয়েছেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কিছু ভিডিও ও অডিও রেকর্ড সরবরাহ করে দাবি করেন, যেকোনো প্রকল্পের ফাইলে সই করার জন্য ইউএনও নির্দিষ্ট হারে অতিরিক্ত ঘুষ ও কমিশন আদায় করেন। ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল অনুমোদন পায় না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, আশরাফুল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় আদালতের প্রতিবেদন আমলে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এর ৩৪ (১) ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। পঞ্চগড় জেলা আদালতের পিপি-ও এ ব্যাপারে আইনি মতামত দিয়েছেন।
ইউএনও আরও জানান, মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাঁকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু চেয়ারম্যান সেই নির্দেশনা অমান্য করে আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেছেন। ঘুষ ও কমিশনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে তিনি বলেন, স্যোশাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইউএনও আরও জানান, ফেসবুকে ভিডিওগুলোর মধ্যে একটি ভিডিওতে একজনের হাতে তাকে টাকা নাড়ানো দেখা যায়। তিনি আমার কোন স্টাফ নয়। তাছাড়া তিনি অনেক আগে এখান হতে বদলি হয়ে গিয়েছেন । এটার সাথে আমার অফিসের কোন সম্পর্ক নেই। এছাড়াও আমাকে নিয়ে অভিযোগগুলো তোলা হচ্ছে তার সাথে কোনটির সাথে আমি জড়িত নই। যা একেবারে ভিত্তিহীন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে। যদি ঐ চেয়ারম্যান যদি অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারেন তা হলে এ বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া তার বিষয়ে ফেসবুকে গতকাল পোস্টের মাধ্যমে তেঁতুলিয়া উপজেলার নাগরিকদের জানানো হয়েছে। আপনারা সাংবাদিকরা সেসব বিষয় নিয়ে তাকে প্রশ্ন করতে পারেন।
এদিকে ইউএনওর পক্ষ নিয়ে ভুক্তভোগী শালবাহান ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামকে বিপক্ষে উপজেলার সাত ইউনিয়নের মধ্যে ৬ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রতিবাদ জানিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা গেছে, ঐ ইউপি চেয়ারম্যান নিজের পদ বাঁচাতে ও বহিষ্কার আদেশ ঠেকাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও)’ র বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ৬ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগন।
ভুক্তভোগী ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের অভিযোগ, আমি জেলহাজতে থাকার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য অসহায় ভাতাভোগীর কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে চাল আত্মসাত করেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করা কি অপরাধ ছিল আমার? আমি চাই না আমার ইউনিয়নের নাগরিকরা সেবা থেকে বঞ্চিত হোক।
তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেঁতুলিয়ার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা

















