Monday , 9 March 2026 | [bangla_date]

ফুলবাড়ীতে এক কেজি আলুর দামে মেলে না এক কাপ চা লোকসানে আলুচাষিরা

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা॥এক কাপ চায়ের দাম দশ টাকা। অথচ এক কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ৯ টাকা কেজি দরে। একজন পুরুষ কৃষিশ্রমিকের মজুরি দিতে হয় ৫৫০ টাকা। এক মণ আলু বিক্রি করেও শ্রমিকের মজুরির টাকা উঠছে না। কৃষকদের প্রায় সব ধরনের ফসল আবাদে লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেক কৃষক সরকারি প্রণোদনাও পান না।
চলতি মৌসুমে আবারও লোকসানের মুখে পড়েছেন আলুচাষিরা। নতুন আলু পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে প্রতি কেজি ছয় থেকে সাত টাকায়। আর খুচরাতে বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৮ থেকে ৯টাকা। এর সঙ্গে প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত পাঁচ কেজি করে ‘ঢলন’ দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। ফলে ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পেয়ে চরম লোকসান গুনছেন চাষিরা।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের পাঠকপাড়া গ্রামের আলুচাষি প্রদীপ রায় বলেন, দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করে তুলনামূলক ভালো ফলন পেয়েছেন। দুই বিঘায় ৮০ থেকে ৮৫ বস্তা (প্রতি বস্তা ৬০ কেজি) আলু উৎপাদন হয়েছে। আলুর ধরন অনুযায়ী প্রতি বস্তা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতি বিঘায় ১৮ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা পাওয়া গেলেও উৎপাদন খরচ হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা। ফলে বিঘাপ্রতি লাকসান হচ্ছে ২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকা।
সমশেরনগর এলাকার আলু চাষি সাইদুর রহমান বলেন, তিনি আড়াই বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছেন। জমি থেকে আলু উত্তোলন করতে অনেক খরচ হচ্ছে। সাত টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করেছেন। এতে তার উৎপাদন খরচও উঠছে না।
বুজরুক সমশেরনগর এলাকার আলু চাষি জয়নাল আবেদীন বলেন, আড়াই বিঘা জমিতে আলু চাষ করে বিঘাপ্রতি প্রায় ৪৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু উৎপাদিত আলু বিক্রি করে পাওয়া গেছে মাত্র ২৪ হাজার টাকা। এতে ২৭ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। আবাদ করতে গিয়ে এভাবে লোকসানে পড়লে কৃষকদের পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।
আলু ব্যবসায়ী জয়ন্ত সাহা বলেন, গত বছরের মতো এবারও আলু চাষে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। অনেকেই ধারদেনা ঋণ করে জমির পরিমাণ কমিয়ে আবার আলু চাষ করেছেন। কিন্তু এবারও লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ীও আলু আবাদে অর্থ জোগান দিয়ে লোকসানে পড়েছেন।
কৃষকরা বলছেন, এখন আলু তোলা শেষ পর্যায়ে। ৮-১০ দিন আগে ফুলবাড়ীতে জমির আলু উঠতে শুরু করে, তখনও বাজার দর ছিল ১২ থেকে ১৫ টাকা কেজি, যা এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, এ বছর উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমি এবং আবাদও হয়েছে সমপরিমাণ জমিতে। যার উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন। তবে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ কৃষকদের চাষাবাদ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কাজ করে থাকে। বাজারদর নির্ধারণের বিষয়টি কৃষি বিপণন বিভাগ দেখভাল করে থাকে।

সর্বশেষ - ঠাকুরগাঁও

আপনার জন্য নির্বাচিত

ভারতে মুসলিম হ’ত্যা ও মসজিদ-মাদরাসা ভাং’চুরের প্রতি’বাদে চিরিরবন্দরে বি’ক্ষোভ সমা’বেশ

হিলিতে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌয়ালরা

হরিপুরকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

ফুলবাড়ীতে প্রতিবন্ধীকে হুইল চেয়ার  দিল ‘আমরা করব জয়’ সংগঠন

ফুলবাড়ীতে প্রতিবন্ধীকে হুইল চেয়ার দিল ‘আমরা করব জয়’ সংগঠন

নির্যাতন মামলার আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে রাণীশংকৈলে মানববন্ধন

বর্ণিল আয়োজনের মধ্যে দিয়ে হাবিপ্রবিতে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস পালন

যুব সমাজের কাছে ক্যাপ্টেন শেখ কামাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে -হুইপ ইকবালুর রহিম

বীরগঞ্জে সবুজের সমারোহে, উঁকি দিচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন

দিনাজপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে  গ্যারেজ মালিকের মৃত্যু

দিনাজপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গ্যারেজ মালিকের মৃত্যু