বিকাশ ঘোষ, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসবাসরত মোজাহারুল ইসলামের ক্রয়কৃত জমি দখলের চেষ্টা, বসতবাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে নারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিরুদ্ধে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের বর্ষা গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে মোঃ নজরুল ইসলাম (৫০) লিখিত অভিযোগে জানান, তার চাচাত ভাই মোঃ মোজাহারুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এই সুযোগে লোকমান হোসেন, তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম,অশমত আলীর
আনসারুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম,আক্তার হোসেন এবং তার ছেলে ইমন মিয়া,
মৃত মতিয়ার রহমান স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগমসহ ৬-৭ জন নারী-পুরুষের একটি সংবদ্ধ দল পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার বর্ষা মৌজার ১৭ শতাংশ ক্রয়কৃত জমি দখলের পায়তারা চালিয়ে আসছে।
ভুক্তভোগী মোজাহারুল ইসলাম বলেন, “আমার বাড়িতে ঢোকার জন্য বাড়ির পথ রোধ করে চারদিকে বেড়া দিয়ে দিয়েছে। আমি মাথা গোঁজার ঠাঁই পাচ্ছি না। প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।”
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্তরা বাড়ির চারপাশে বেড়া দিয়ে চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ করে দিয়েছে,ফলে পরিবারটি কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে সংঘবদ্ধ দলটি বাড়ির ঘেরাবেড়া ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় বাঁধা দিতে গেলে নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি ধামকির একপর্যায়ে মৃত ছাবেদ আলী স্ত্রী মোছাঃ সুলতানা বেগম (৫৫) তার বড় মেয়ে লায়লা বেগম (৩৩) এবং ছোট মেয়ে হুসনে আরা বেগম (৩০) ও শিমু আক্তা (২২) এর উপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা শিমু আক্তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে তার ডান চোখে মারাত্মক জখম হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। একই সঙ্গে তার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে শিমুর অবস্থার অবনতি হলে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়, যেখানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
ভুক্তভোগী সুলতানা বেগম জানান, “অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বসতঘরের সীমানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে আসছিল। সুযোগ পেলেই উচ্ছেদ ও দখলের পায়তারা চালাতো।”এ ঘটনায় বীরগঞ্জ থানায় পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, জমি দখল, যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া এবং নারী-শিশুর ওপর হামলার মতো ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
















