Saturday , 7 March 2026 | [bangla_date]

বীরগঞ্জে সজিনার ফুলে প্রকৃতি সেজেছে আপন মহিমায়

বিকাশ ঘোষ, বীরগঞ্জ(দিনাজপুর)প্রতিনিধি: ষড়ঋতুর দেশ আমাদের এ বাংলাদেশ। সুজলা সুফলা, শস্য শ্যামলায় ভরা বাংলাদেশের একেকটি ঋতু একেক রুপ ও রঙ নিয়ে হাজির হয়। ঠিক তেমনি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার
শিবরামপুর, পলাশবাড়ী, শতগ্রাম, পাল্টাপুর, সুজালপুর,নিজপাড়া, মোহাম্মদপুর,ভোগনগর, সাতোর,মোহনপুর ও মরিচা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাড়ির আনাচে-কানাচে ও রাস্তার পাশে থাকা সজিনার গাছগুলো থোকায় থোকায় সাদা সাদা ফুলে ভরে উঠেছে। মৌ মৌ করছে চারপাশ। সজিনা গাছের ডালের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত ফুল আর ফুল। এ সময় সজিনা গাছের পাতা ঝরে পড়ে। তাই পাতা শুন্য ডালে থোকা থোকা সাদা ফুলের শোভা দেখে সকলেই মহিত হয়।
প্রকৃতি এখন সাদা ফুলের মায়ায় ঢাকা। বসন্তের এই সময়ে এই সজনেতে। আমাদের গ্রামীণ জনপদে যেখানে অপুষ্টি এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ, সেখ সেখানে সজনে হতে পারে পুষ্টি নিরাপত্তার সবচেয়ে সন্ধা ও কার্যকর সমাধান। অথচ আমরা এখনো এর প্রকৃত গুণাগুণকে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে পারিনি।
বীরগঞ্জ উপজেলার বর্তমান চিত্রটি তবে আমাদের মনে রাখতে প্রভিটি সজনে গাছে থোকায় থোকায় ফুটে থাকা ফুলগুলো কেবল নয়ন জুড়ানো দৃশ্য নয়, বরং এটি আমাদের স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির জন্য এক বিশাল সম্ভাবনার বার্তাও বাট। আবহমান কাল ধরে সজনেকে আমরা বাড়ির আঙিনায় বা পথের ধারে অযত্ন-অবহেলায় বেড়ে ওঠা একটি সাধারণ গাছ হিসেবেই দেখে এসেছি। কিন্তু বর্তমানের পুষ্টিবিজ্ঞানের যুগে দাঁড়িয়ে এই গাছটি এখন কেবল সবজি নয়, বরং এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘সুপারফুড’ না “জাদুকরী উদ্ভিদ’ হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে। বীরগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া যে সজনে চাষের জন্য কতটা আশীবাদপুষ্ট, তা চলতি মৌসুমে গাছের ডালপালাজুড়ে থাকা ফুলের প্রাচুর্যই প্রমাণ করে। পুষ্টিবিদদের মতে, সজনে গাছ প্রকৃতির এক অনন্য দান। অ্যানেমিয়া বা রক্তস্বল্পতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ কিংবা হাড়ের ব্যথাসহ আধুনিক জীবনযাত্রার অসংখ্য জটিল রোগের মহৌষধ লুকিয়ে আছে এই গাছের ডাটা ও পাতায়। দক্ষিণ আফ্রিকায় একে ‘মিরাকল ট্রি’ বা জাদুকরী গাছ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

সজিনা বিশ্বের অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি বৃক্ষ। অলৌকিক গাছ হিসেবে সজিনা পরিচিত। ইংরেজিতে সজিনার নাম ‘ড্রামস্ট্রিক’ যার অর্থ ঢোলের লাঠি। নামটি অদ্ভুত হলেও এটি অতিপ্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী সবজি জাতীয় একটি উদ্ভিদ। এই সজিনা গাছ থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হন বাড়ির গৃহিনীরা। তারা সজিনা মৌসুমে সজিনা বিক্রি করে হাতের খরচ হিসেবে অর্থ সঞ্চয় করেন। এছারা গাছের পাতা, ফুল, ফল, ব্যাকল ও শিকড় সবই মানুষের উপকারে আসে। সজিনার পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। এ গাছের অনেক গুণ থাকায়, এ গাছকে যাদুর গাছ বলা হয়। কাঁচা সবুজ পাতা রান্না করে, ভর্ত্তা করে ও বড়া ভেজে সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। কাঁচায় এর ফল সবজি করে আবার পাকলে বীজ বাদামের মতো ভেজে খাওয়া যায়।

সজিনার ফুল আসে জানুয়ারীতে আর নাজিনার ফুল আসে মার্চ মাস থেকে। তবে সব ফুল থেকে ফল হয় না। একটি থোকায় সর্বাধিক ১৫০টির মত ফুল ধরে। ফুল ৪০ সেমি. থেকে ৮০ সেমি. পর্যন্ত লম্বা হয়। ফুল ফুটার ২মাস পর ফল তোলা যায়। একটি বড় গাছে ৪০০ থেকে ৫০০ ফল ধরে। প্রতিটি ফলে ৩০-৪০টি বীজ হয়।

বর্তমানে সজনে ফুল ও পাতা সংগ্রহের বিষয়টি বিশেষ ভাবে লক্ষণীয়। উপজেলার গ্রামীণ জনপদের এই সবজি উৎপাদনে ও চাষে উদ্যোগী হলে অর্থনৈতিক উপার্জনের পাশাপাশি ঔষধী সবজির সংস্পর্শে আসা সম্ভব হবে। সজনে চাষী রশিদুল ইসলাম (৪৫)জানান, আমার ৪টি সজনে গাছ আছে গেলো গত বছরের তুলনায় এবছর ফুল অনেক এসেছে প্রতি বছর এই গাছ গুলো থেকে আমি প্রায় ১০-১৫হাজার টাকার সজনে বিক্রি করি এবছর আবহাওয়া অনুকূল ভালো থাকলে আরো বেশি টাকার সজনে আমি বিক্রি করতে পারব বলে আমি আশাবাদী।

সর্বশেষ - ঠাকুরগাঁও

আপনার জন্য নির্বাচিত

বালিয়াডাঙ্গীতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৫টি দোকান মালিককে২৮ হাজার টাকা জরিমানা

পায়ে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ শেষে দিনাজপুরে নেপালি যুবক

পীরগঞ্জে হতদরিদ্র ১০০ নারী-পুরুষকে কম্বল দিল শুভসংঘ

তেঁতুলিয়ায় এলজি ইলেকট্রনিক্সের সৌজন্যে ২৭ টি দুস্থ পরিবারের মাঝে ৫৪টি ছাগল বিতরণ

নানা আয়োজনে দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী

বিরল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভাতা আত্মসাদের অভিযোগে মানববন্ধন

রানীশংকৈলে প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াছমিনের অবসর জনিত বিদায় সংবর্ধনা

পার্বতীপুরে বিনামূল্যে পাটবীজ  ও রাসায়নিক সার বিতরণ

পার্বতীপুরে বিনামূল্যে পাটবীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ

ঠাকুরগাঁওয়ে শেখ কামাল ২য় বাংলাদেশ যুব গেমসের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

তফসিল ঘোষনাকে স্বাগত জানিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের আনন্দ র‌্যালী