Wednesday , 18 March 2026 | [bangla_date]

ভেজাল নিম্নমানের সেমাই প্রস্তুত, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

ঠাকুরগাঁওয়ে বিএসটিআই-এর অনুমোদন ছাড়াই যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ভেজাল ও নিম্নমানের লাচ্ছা সেমাই কারখানা। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এসব অস্থায়ী কারখানায় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত হচ্ছে ক্ষতিকর রং মেশানো সেমাই।
জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বিসিক শিল্প নগরী, রোড মথুরাপুর, জগন্নাথপুর, সালান্দর, গড়েয়াসহ জেলার বালিয়াডাঙ্গী, রাণীশংকৈল, পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিএসটিআই-এর অনুমোদন ছাড়াই অস্থায়ীভাবে গড়ে উঠেছে শতাধিক সেমাই কারখানা।
চিকিৎসকরা বলছেন, এসব ভেজাল লাচ্ছা সেমাই খেলে মানবদেহে ক্যান্সারসহ জটিল রোগ দেখা দিতে পারে।
সম্প্রতি সরেজমিনে বিভিন্ন সেমাই কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, ভ্যাপসা গরমে দস্তানা (গ্লাভস) ব্যাবহার না করেই খালি হাতে সেমাই প্রস্তুত করছেন শ্রমিকরা। কারখানার ভেতরের পরিবেশ খুবই অস্বাস্থ্যকর। লাচ্ছা সেমাই প্রস্তুত করার জন্য রাখা খামির ও ডালদায় অসংখ্য মাছি পড়ছে। তেলের সঙ্গে পড়ে আছে মরা মাছি।
এভাবেই মাছিসহ প্রস্তুত করা হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই। এছাড়া ভোক্তাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে লাচ্ছা সেমাইয়ে মেশানো হচ্ছে নিম্নমানের ডালদা ও রং। আর ঘি-এর পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে রাসায়নিক যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।
সদর উপজেলা মথুরাপুর এলাকার মিমি লাচ্ছা সেমাই কারখানার কারিগর আব্দুস সামাদ জানান, তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে প্রতিবছর এই কারখানায় লাচ্ছা প্রস্তুতের কাজ করতে আসেন।
রমজানের প্রথম সপ্তাহ থেকে ১৫ দিন লাচ্ছা তৈরি করেন। তারপর মালিকের কাছ থেকে পারিশ্রমিক নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। তার সহযোগী হিসেবে আরো বেশ কয়েকজন কারিগর এসেছেন এবার।
আরেক কারিগর জমির আলী জানান, রং ছাড়া লাচ্ছা বানালে সাধারণ ক্রেতারা তা পছন্দ করবে না। তাই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে লাচ্ছায় সামান্য রং ব্যাবহার করা হয়।
আর ঘি-এ ভাজা লাচ্ছাতেও সামান্য তরল পদার্থ মিশিয়ে লাচ্ছায় ঘি-এর গন্ধ আনতে হয়।
সদর উপজেলা অস্থায়ী কারখানার লাচ্ছা সেমাই তৈরির কারিগর শমশের আলী বলেন, ‘জায়গা কম থাকায় বাইরে টয়লেট ও খোলা বাথরুমের পাশে অস্থায়ীভাবে লাচ্ছা তৈরি করা হচ্ছে।’ একই কারখানার কারিগর মোহাম্মদ লিটন বলেন, ‘বাজারে ঘি-এ ভাজা যেসব লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে, তা সবই ক্যামিকেলযুক্ত। কারণ ঘি-এর কেজি বর্তমানে এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা। এত টাকা দিয়ে ঘি কিনে লাচ্ছা বানালে লোকসান ছাড়া লাভ হবে না। তাই ঘি-এর বিকল্প হিসেবে গরম ভাজা লাচ্ছার ওপর স্প্রে মেশিন দিয়ে ঘি গন্ধযুক্ত রাসায়নিক ছিটিয়ে তা বিক্রি করেন অনেকে। ফলে ওই লাচ্ছা ঘি-এ ভাজা বলে মনে করেন ভোক্তারা। এবিষয়ে কাউকে জানাতে বারণ আছে মালিকের।’
বিসিক এলাকার শোভা লাচ্ছা সেমাই কারখানার মালিক জাহাঙ্গীর খান বলেন, ঈদ সামনে রেখে বিএসটিআই-এর অনুমোদন ছাড়াই শহরে অনেক অস্থায়ী সেমাই কারখানা গড়ে উঠেছে। অনেকে ভেজাল লাচ্ছা সেমাই তৈরি করে তা কম দামে বাজারে বিক্রি করছে। দাম কম হওয়ায় এসব সেমাইয়ের মান যাচাই না করেই তা কিনছেন ক্রেতারা। অস্থায়ী মৌসুমী এসব কারখানাগুলোয় প্রশাসনের অভিযান পরিচালনা করা উচিত।
ভেজাল এসব সেমাই অস্বাস্থ্যকর ও ক্ষতিকারক। তাই ভেজাল বন্ধে প্রশাসনের নজরদারিতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন সাধারণ ভোক্তারা। সদর উপজেলা কলেজপাড়া এলাকার মীর প্রীতম বলেন, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে শহরে যত্রতত্র অনেক অস্থায়ী সেমাই কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় নিম্নমানের ভেজাল লাচ্ছা সেমাই তৈরি করা হচ্ছে, যা স্বাস্থের জন্য হুমকি স্বরূপ। ভেজাল লাচ্ছা সেমাই বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়ানো উচিত।
সদর উপজেলা সরকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাশেদুল আলম বলেন, বাজারে বিভিন্ন বাহারি নকশার মোড়কে দেশি ও পাকিস্তানি লাচ্ছা সেমাই বিক্রি করা হচ্ছে। এগুলোর গুণ ও মান কেমন- তা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য নির্ণয় করা কঠিন। নিরুপায় হয়ে সামান্য হলেও ঈদে পরিবারের জন্য কিনতে হচ্ছে। হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মকলেছুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাজারে যেসব লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে তা খুবই নিম্নমানের। শহরে নামিদামি দোকানে বাহারী রঙের লাচ্ছা সেমাই বিক্রি করা হচ্ছে। এসব লাচ্ছা সেমাইয়ের মোড়কে বেশিরভাগই বিএসটিআই-এর কোনো অনুমোদন নেই। রং মিশিয়ে বিভিন্ন রং আনা হয়, যা স্বাস্থের জন্য খুবই ক্ষতিকারক।
ঠাকুরগাঁও ২৫০শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহা. ফিরোজ জামান বলেন, লাচ্ছা সেমাইয়ে যদি রং ও অন্যান্য রাসায়নিক মেশানো হয়, তবে তা মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, যা মানুষের পেটে গেলে ক্যান্সারের মতো ভয়ানক রোগ হতে পারে। তাই বিভিন্ন রং মেশানো সেমাই ও লাচ্ছা না খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, জেলায় অবৈধ কারখানায় ভেজাল লাচ্ছা সেমাই তৈরি ও বাজারে ভেজাল লাচ্ছা বিক্রি বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। ভেজাল বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যাবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। আর ভেজাল বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে দাবি জেলা প্রশাসনের।

সর্বশেষ - ঠাকুরগাঁও

আপনার জন্য নির্বাচিত

তেঁতুলিয়া মাদকের নীল দংশনে তরুণরা সন্তানদের বাঁচাতে আকুতি অভিভাবকদের

লায়ন্স ক্লাবের ডায়াবেটিস ক্যাম্পে ক্লাব প্রেসিডেন্ট নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ডায়াবেটিস রোগী অনেক দিন বাঁচতে পারে

সমন্বয়ককে ধমক পঞ্চগড়ের সাবেক সাংসদ নাঈমুজ্জামানের বিরুদ্ধে জিডি

বোচাগঞ্জে ইএসডিওর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ে ফল উৎসব !

কেয়ার নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের শিরাভরণ ও কোমর বন্ধনী পরিবর্তন

ঠাকুরগাঁওয়ে বালিয়াডাঙ্গীতে ২ হাজার দুই শত জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে পাট বীজ বিতরণ

ঠাকুরগাঁও জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক সাধারন সভা

দিনাজপুরে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা

বীরগঞ্জে ছিন্নমূল ও পথচারীদের ইফতার সামগ্রী বিতরণ