রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন খোলা বাজারে উচ্চমুল্যে সামান্য পরিমানে তেল পেলেও ফিলিং স্টেশনগুলেতে (পাম্প) তেল পাচ্ছেন না বাইক মালিক ও কৃষকরা। ধান রোপনের পর জমিতে সেচ দিতে না পারলে পাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাবে। ডিজেলের অভাবে সেচ দিতে পারছেন না অনেকেই। ডিপোতে পর্যাপ্ত তেল থাকলেও ফিলিং স্টেশন (পাম্প) মালিকরা তেল নিয়ে আসছেননা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পাম্প মালিকরা বলছেন এজেন্টদের ডিপো থেকে ডিজেল-অকটেন চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছেনা।
উপজেলার আমজুয়ান গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, ১ বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত টাকা দিয়েও তেল পাচ্ছিনা। জমিতে সময় মতো সেচ দিতে না পারলে বোরো ধানে লোকসান হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এদিকে মোটরসাইকেল মালিকরা জেলার কোন একটি পাম্পে পেট্রোল অকটেন আসার খবর পেলেই মুহুর্তের মধ্যে জড়ো হচ্ছে সেখানে। ঘন্টারপর ঘন্টা দাঁড়িয়ে পুলিশ পাহাড়ার মধ্য দিয়ে ২শ টাকার তেল নিয়ে বাড়ি বাড়ি ফিরছেন ।
বিরাশি গ্রামের কৃষক আনিকুল বলেন, একবিঘা জমিতে বোরো চাষ করতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৬ হাজার টাকা। সেচ মালিকদের আগে দিতে হতো ১৫শ টাকা। এখন ডিজেলের দাম বাড়ায় খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকেই।
কৃষি কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ৯হাজার ৯শ ৮০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হচ্ছে। মনে হয় তেলের সংকট দ্রুতই কমে যাবে। তবে তেলের কারণে উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়লেও ফসলের দাম থাকায় কৃষকরা লাভবান হবেন।
জুই ফিলিং স্টেশনের ব্যাবস্থাপক নারায়ন চন্দ্র রাজবংসীয় বলেন, ঈদ ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সংকট কিছুটাতো রয়েছে। এ আতংকে তেল মজুত করছি। গতকাল মঙ্গলবার পেট্রোল নিয়ে এসেছিলাম ৩হাজার লিটার,ডিজেল সাড়ে ৪ হাজার লিটার। সে তেল আমি ৩দিনে বিক্রি করি সে তেল ৫/৬ ঘন্টায় শেষ হয়ে গেছে। এখন ডিপোতো আমাকে চাইলেই তেল দিবেনা। তারা ৩দিন পর আবার তেল দিবে, বর্তমানে বসে আছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাজিদা বেগমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিফ করেনি। তবে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা জানিয়েছেন জ্বালানি তেলের সংকট থাকবেনা। ইতো মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং শুরু কিেছ।
















