দিনাজপুর শহরের বালুবাড়ী নিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী ৮৬ বছর বয়সী নুরবানু কবীর রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে ‘অদম্য নারী’ পুরস্কার লাভ করেছেন। তিনি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ‘সফল জননী’ ক্যাটাগরিতে এই ‘অদম্য নারী’ পুরস্কার লাভ করেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রংপুরের আরডিআরএস মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার হিসেবে তাঁকে ক্রেস্ট, সনদ ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার লালপুর গ্রাম নিবাসী মহিদুর রহমান চৌধুরী এবং আমিনা খাতুন এর কন্যা নুরবানু কবীর ১৯৫৫ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একের পর এক ১০ সন্তানের জননী হবার গৌরব লাভ করেন। নিজে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করলেও সন্তানরা যেন সুশিক্ষিত হয়ে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে সেজন্য তিনি সারাজীবন কষ্ট ও সংগ্রাম করে গেছেন। তার কষ্টের ফসল হিসেবে ১০ সন্তানের ৭ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ মাস্টার্স ডিগ্রি, ১জন গ্রাজুয়েশন ও ২জন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা লাভ করে কর্ম জগতে সুপ্রতিষ্ঠা লাভ করতে সমর্থ হয়েছেন।
নুরবানুর ১ম সন্তান সুলতানা কবীর ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত ইন্সট্রাক্টর, ৩য় সন্তান সুফিয়া কবীর বিরলের মুন্সিপাড়া কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারি অধ্যাপক (অর্থনীতি), চতুর্থ সন্তান আবু সুফিয়ান কবির ঢাকায় সাংবাদিকতা করছেন, পঞ্চম সন্তান শাহান সাহা আজাদ কবির সরকারি চাকরিতে উপসচিব পদে অবসরে গেছেন, ৭ম সন্তান শাহানা কবীর সহকারি শিক্ষক পদে চাকরি করে অবসরে আছেন, ৮ম সন্তান সাদিয়া সুলতানা দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন, ৯ম সন্তান সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবীর পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) হিসেবে কর্মরত আছেন, ১০ম সন্তান সোহেলী কবির ঢাকা বিমানবন্দর (ক্যান্টনমেন্ট) উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। নুরবানুর দ্বিতীয় সন্তান সুলতান আলী কবীর কৃষি কর্মে যুক্ত আছেন এবং অপর সন্তান শাহিনা কবীর হলেন সাধারণ গৃহিণী।
নুরবানুর স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চাকুরিজীবী হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত থাকতেন। তিনি সন্তানদের প্রতি তেমন সময় দিতে পারতেন না। কিন্তু নুরবানু তার সন্তানদের সুশিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। এর স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে, পরে জেলা পর্যায়ে এবং সর্বশেষ বিভাগীয় পর্যায়ে সফল জননী ক্যাটাগরিতে অদম্য নারী পুরস্কার লাভ করলেন।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি রংপুরের আরডিআরএস মিলনায়তনে আয়োজিত অদম্য নারী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর (ঢাকা) এর পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মিজ নাঈমা হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকারের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আবু জাফর, বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি (অপারেশন) শাহ মমতাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মারুফ আহমেদ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) ও অদম্য নারী পুরস্কার কর্মসূচির পরিচালক মোঃ মনির হোসেন।

















