“এখানে ব্যাপক জলবদ্ধতা হয়। খাল খননের মাধ্যমে জলবদ্ধতা দূর হবে এবং সেচের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।”
বিকাশ ঘোষ, বীরগঞ্জ( দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর গ্রামে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি জানিয়েছেন।
রবিবার (৮ মার্চ) বেলা ১২টায় উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বলরামপুর শাহাপাড়া খাল খনন কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী জানান, নির্বাচিত হওয়ার পরই উত্তরবঙ্গ সফরের আগামী ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরে আসবেন। এ সফরে তিনি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে কাহারোল উপজেলায় উপস্থিত হবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ৩০ হাজার খাল খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা একযোগে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন, যা কৃষি, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী এ সময় উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বলরামপুর সাহাপাড়া তেলমাখা ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করে চলমান খাল খনন কার্যক্রম সরেজমিনে দেখেন। প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, “নির্বাচনী ইশতেহারে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি, সেচব্যবস্থা ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে খাল খনন কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।”
মন্ত্রী আরও বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে এবং শুকনো মৌসুমে সেচের জন্য পানির সংরক্ষণ সহজ হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ সময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি এবং দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো: মনজুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার আমিনুল ইসলাম, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার জেদান আল মামুন, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কৃষকরা সেচ সংকট ও জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগ ছিলেন। খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে আসবে।


















