চৈত্রের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের পথঘাট ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে। একইসঙ্গে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে ফসলি মাঠ থেকে শুরু করে প্রভাব পড়ছে মানুষের জনজীবনে।
১ এপ্রিল গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত পঞ্চগড়ে কুয়াশার দেখা মিলেছে।
তবে ভোর থেকে হিমেল বাতাসের কারণে খানিকটা শীত অনুভূত হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও কেটে যায় কুয়াশা, দেখা মেলে সূর্যের। সকাল ৮টার পরে সূর্যের তাপের তীব্রতা লক্ষ্য করা গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে, সকাল ৬টায়ও একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে আবহাওয়ার এমন বিরূপ প্রভাব দেখা গেছে। সকাল সকাল ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে জেলার চারপাশ। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে জ্বর, সর্দি-কাশিসহ নানা রোগ দেখা দিচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৫-২৮ ডিগ্রির মধ্যে ওঠা-নামা করছে। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮-২০ ডিগ্রির মধ্যে রয়েছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় সময় সংবাদকে বলেন, বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জলীয়বাষ্প দ্রুত ঘন হয়ে কুয়াশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে আসে এবং মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে চৈত্রেও শীতের মতো কুয়াশা দেখা গেছে। আগামী দিনগুলোতেও মাঝেমধ্যেই এমন পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে, পাশাপাশি গরমের তীব্রতাও বাড়বে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পঞ্চগড়ে গত তিন সপ্তাহ ধরে ঋতু বৈচিত্র্য ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। দিনভর মেঘলা আকাশ থাকছে, আবার রাতভর ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। যেখানে কয়েক বছর আগে চৈত্রের দিনে কাঠফাটা রোদে মানুষ নাভিশ্বাস উঠত, সেখানে চলতি মৌসুমে চৈত্রের শেষে ভারি বৃষ্টিতে গম, ভুট্টা, মরিচসহ নানা রবি শস্য ক্ষতির মুখে পড়েছে।

















