পঞ্চগড় প্রতিনিধি
গত রোববার বিকেলে পঞ্চগড়ে বিদ্যুতের লাইনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে নেসকোর একজন লাইনম্যান মারা যাওয়ার পর থেকে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এরই প্রতিবাদে সোমবার দুপুর থেকে পঞ্চগড় জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে এবং ধাক্কামারা গোলচক্কর এলাকায় পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। এতে করে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় মহাসড়ক বন্ধ থাকায় আটকা পড়ে হাজারও যানবাহন। সন্ধ্যার মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে প্রশাসনের এমন আশ্বাষে প্রায় চার ঘন্টা পর বিকেল চারটার দিকে তারা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।
স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকেলে জেলা শহরের ধাক্কামারা এলাকার বিদ্যুতের লাইনে কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে নেসকোর লাইনম্যান শাহীন আলম মারা যান। এর পর থেকেই ধাক্কামারা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। নেসকো কর্তৃপক্ষ গভীর রাতে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করলেও অধিকাংশ এলাকায় বন্ধ থাকে। করতোয়া সেতুর দক্ষিণের ধাক্কামারা, পুরাতন পঞ্চগড়, সিএন্ডবি মোড়, মিলগেট, ফুলতলা, কাগজিয়াপাড়া, দর্জিপাড়া, খোলাপাড়া, খানপুকুর, নহলিয়াপাড়াসহ অধিকাংশ গ্রামের গ্রাহকদের রাতভর অন্ধকারে থাকতে হয়। গতকাল সোমবার দুপ্রু পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় বিক্ষুদ্ধ গ্রাহকরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে।
ধাক্কামারা এলাকার পুরাতন পঞ্চগড়ের ব্যবসায়ী আজিম পাটোয়ারী নতুন জানান, বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে নেসকোর একজন লাইনম্যান নিহত হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। তার চেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হল যে, দূর্ঘটনার ২৬ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও ওই লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এটা নেসকোর গাফিলতি ছাড়া কিছু নয়। তাদের গাফিলতির কারণে হাজার হাজার মানুষ দূর্ভোগে পড়েছে।
এ ব্যাপারে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, আমাদের লাইন বন্ধ থাকলেও আমাদের লাইনের ওপর দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের লাইন ক্রস হওয়ার কারণে মর্মান্তিক ওই দূর্ঘটনাটি ঘটেছে। দূর্ঘটনার পর থেকেই ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এ কারণে ক্ষুব্ধ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা সড়ক অবরোধ করেছে। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারব।
এদিকে দূর্ঘটনার পরই বিক্ষুদ্ধ লোকজন পঞ্চগড় নেসকোর কার্যালয় ঘেরাও এবং মহাসড়ক অবরোধ করে। রাতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা সেখানে উপস্থিত হন। পরে নেসকো কর্তৃপক্ষ নিহত লাইনম্যান শাহীন আলমের স্ত্রীকে চাকুরীর ব্যবস্থা এবং দুই লাখ টাকা দেয়ার আশ্বাষে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

















