হাজী মোহাম্মদ দানেশবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে “২৫ তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬” উদযাপিত হয়েছে।
দিনটি উপলক্ষ্যে সকাল ৮.৩০ টায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শহিদ আবরার ফাহাদ হল সংলগ্ন মাঠ থেকে মিনি ম্যারাথন শুরু হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয়পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনাম উল্যা, প্রোভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো.শফিকুল ইসলাম সিকদার ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির। এরপর শান্তির প্রতীক হিসেবে পায়রা অবমুক্ত করা ও বেলুন উড্ডয়ন করা হয়। পরবর্তীতে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা’র নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ক্যাম্পাস ও এর সামনের মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে, র্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
এরপর শহিদগণের স্মরণে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন ভাইস চ্যান্সেলর, প্রোভাইস-চ্যান্সেলর ও ট্রেজারার, এ সময়আরওউপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রারপ্রফেসর ড. মো. আবুহাসান, প্রক্টর প্রফেসর ড. মো.নওশের ওয়ান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. এস. এম. এমদাদুল হাসান। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন ও ভাইস চ্যান্সেলর বাণী পাঠ করা হয়। বাণীতে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫তম প্রতিষ্ঠা দিবসএকটি ঐতিহাসিক দিন, অন্যদিকে আমাদের জন্য এক আনন্দঘন মুহূর্ত ও গৌরবময় অধ্যায়। ২০০২ সালের ৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রজ্ঞাপন জারী এবং মাত্র এক সপ্তাহ পর অর্থাৎ ১৬ এপ্রিল মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মন্ত্রী মরহুমা খুরশীদ জাহান হক এমপি কর্তৃক আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয় এক দীর্ঘপথ অতিক্রম করেছে।
শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ইতিমধ্যে আমরা বহুবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। তৎমধ্যে, গ্রন্থাগার ও টিএসিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং হল ডাইনিং এ স্বাস্থ্যকর ও উন্নতমানের খাবার চালুকরণসহ ছাত্রী হলের নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ ও সংস্কার, রাস্তা ও খেলার মাঠ সমূহের সংস্কার অন্যতম। জুলাই-আগস্ট ‘২৪ এর মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে “জুলাই চত্ত্বর”, “জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ” ও “জুলাই ৩৬ সড়ক” উম্মোচন করা হয়েছে। ” মহান বিজয় দিবস” ও “৫ আগস্ট জুলাইগণ অভ্যুত্থান দিবস”-এ আবাসিকহল সমূহে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ‘পিএইচডি ফেলোশীপ’ চালু করা হয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সফল ভাবে আয়োজন এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘ পনের বছর পর ২০২৫ সালে ২য় সমাবর্তন সফল ভাবে সম্পন্নের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে মূল সনদ তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি। বিশ^বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণ, শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়ন, গবেষণা ও ল্যাব ভিত্তিক সুবিধার আধুনিকায়ন এবং শিক্ষা-গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে একনেকে ৫৭৬কোটি ৯৬লক্ষ টাকার ডিপিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা হাবিপ্রবির জন্য মাইল ফলক। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তিতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলার ব্যাপক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি।
ইতিমধ্যে আমরা গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী, তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার নির্দশন স্বরুপ ১২তলা বিশিষ্ট ‘‘বেগম খালেদা জিয়া’’ ছাত্রীহল এবং “অমর একুশে” ছাত্রহলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছি। এমতাবস্থায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে এবং গুনগত মানের গ্র্যাজুয়েট তৈরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে গঠিত সরকারের সুদৃষ্টি ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে টিএসসি প্রাঙ্গণে কেক কাটা হয় এবং শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে দিনটি উপলক্ষ্যে দুপুর ১২টায় ফরিদপুর কবরস্থানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী মরহুমা খুরশীদ জাহান হক ও গোর-এ-শহিদ ময়দানে হাজী মোহাম্মদ দানেশ এর কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন ভাইস চ্যান্সেলর, প্রোভাইস-চ্যান্সেলর ও ট্রেজারার মহোদয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর ১২.৩০ টায় মজার ইস্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও প্রতিযোগিতা সমূহের পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং বাদ জোহর কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
















