Saturday , 4 April 2026 | [bangla_date]

শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষানগরী নামেই পরিচিতি লাভ চিরিরবন্দর

চিরিরবন্দর প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলাকে অনেকেই শিক্ষানগরী বলছেন। কারন এই একটি উপজেলায় মানসম্মত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৭৩টির মধ্যে ২৭টিতেই আবাসিক সুবিধা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক রয়েছেন। অন্যদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বর্তমানে ১৯৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠায় সৃস্টি হয়েছে বিভিন্ন কর্মসংস্থান। আবার এসব প্রতিষ্ঠানের কারণে মাসে ৬-৭ কোটি টাকার লেনদেন হয় বলে জানা গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে পড়তে আসে শিক্ষার্থীরা। অথচ এই উপজেলায় একটি রেলস্টেশন ছাড়া বড় কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠান না থাকলেও অর্থনৈতিক চাকা সচল রেখেছে এসব বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।
মাত্র দুই যুগ আগেও দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়া ভালো মানের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। সেই চিরিরবন্দরে এখন পড়ালেখা করতে আসছে শুধু দিনাজপুরই নয়, রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও। ফলে ‘শিক্ষানগরী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে চিরিরবন্দর।
এবার জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে সারাদেশের মধ্যে প্রথম হয়েছে চিরিরবন্দর আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল। সেরাদের সেরা ফলাফল অর্জন করেছে স্কুলটি। এ স্কুল থেকে এবছর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ৮৪জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে এবং ৮৪জনই বৃত্তি লাভ করেছে। এরমধ্যে ৬৮জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১৬জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৫জন ছাত্র ও ২৯জন ছাত্রী। এছাড়াও আমেনা বাকি রেসি. মডেল স্কুল থেকে ১১০জন অংশ নিয়ে ৬জন ট্যালেন্টপুল ও ৮২জন সাধারণ গ্রেডে, মেহের হোসেন রেসি. মডেল স্কুল থেকে ২৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ১ জন ট্যালেন্টপুল ৭ জন সাধারণ গ্রেডে, সিটি রেসি. মডেল স্কুল থেকে ১১০জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩জন ট্যালেন্টপুল ও ২৫জন সাধারণ গ্রেডে এবং সানলাইট স্কুল থেকে ৩৫জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৫জন জন ট্যালেন্টপুল ও ১০জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে।
জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানে নার্সারি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আবাসিক খরচ ৯ থেকে ১২ হাজার টাকা। আর টিউশন ফি শ্রেণিভেদে ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এসব প্রতিষ্ঠানে সর্বনিম্ন ১২০০ থেকে আড়াই হাজার পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে আবাসিকে থাকছে এক-তৃতীয়াংশ। কঠোর নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে রাখা হয়েছে শিক্ষার্থীদের।অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের রয়েছে নিজস্ব খেলার মাঠ, গ্রন্থাগার, মসজিদ, কম্পিউটার ল্যাবরেটরিসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। শিক্ষানুরাগী পেশায় চিকিৎসক আমজাদ হোসেন ২০০০সালে চিরিরবন্দর উপজেলার ঘুঘরাতলীতে মা-বাবার নামে আমেনা-বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে যায়। ২০১২সালে প্রতিষ্ঠা পায় আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল। এরপর গড়ে উঠতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
কয়েকজন শিক্ষক জানায়, চিরিরবন্দরের ঘুঘরাতলী এলাকায় ৫০০ গজের মধ্যে বেসরকারি ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর অধিকাংশ বিদ্যালয়ই আবাসিক। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গুণগত মান ও পরিবেশ উন্নত করার একটা প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। প্রায় ৮৫শতাংশ শিক্ষার্থী বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছে। ২০২৩-২৪শিক্ষাবর্ষে আমেনা-বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজ এবং আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের ১৪জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে, ৪জন বুয়েট,৭৮জন বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ১১জন অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলটির পরিচালক মো. মোমিনুল ইসলাম জানান, আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলটি সাড়ে আট একর জমিতে গড়ে উঠেছে বড় বড় ভবন ও খেলার মাঠ। ১৪০০শিক্ষার্থীর এই প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী মিলে কর্মরত আছেন ১১১জন। ১৫৮জন এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ১৫৬ জন জিপিএ-৫ পাওয়াসহ শতভাগ পাস করেছে। মোবাইল ও সামজিক বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শিক্ষক-ছাত্রদের দূরে থাকা, কার্যকর ও সময়োপযোগী শিখন পদ্ধতি, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, নিয়মশৃঙ্খলা ও পড়াশোনার সুন্দর পরিবেশের কারণে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল পওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া ছাত্রদের মধ্যেও ভালো করার প্রতিযোগিতা গড়ে তোলা হয়। নিয়ম মেনে সপ্তাহে একটি মোবাইলে ৫ মিনিট বাবা-মা ও ভাই-বোনের সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা রয়েছে। সপ্তাহে একদিন অভিভাবকরা দেখা করতে এবং সঙ্গে রাখতে পারেন। সন্ধ্যায় আবার রেখে যেতে হয়। ক্যাম্পাসে রয়েছে টিভি দেখা, খেলাধুলার ব্যবস্থা এবং লাইব্রেরি। বিকেলে নির্ধারিত সময়ে এগুলো করতে হয়। রয়েছে ডিবেট টিম। ক্লাসের পড়ালেখা ক্লাসেই শেষ করতে হয়। সকাল ও সন্ধ্যার পরও ক্লাসে কোচিং করতে হয়। আবাসিক হলের কোনো রুমে কোনো বই নেই। বিদ্যালয়ে ১৭ জেলার শিক্ষার্থী রয়েছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মিনি রিসোর্ট। তাদের খাওয়ার সবজি ক্যাম্পাসেই উৎপাদন হয়।
স্থানীয় মোর্শেদুর রহমান জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। প্রতিমাসে প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি টাকা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেনদেন হয়। এই এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও এর প্রতিফলন ঘটিয়েছে। পাশাপাশি সুনাম ছড়িয়েছে সারাদেশে।
চিরিরবন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলে এলাহী বলেন, গত দুই দশকে এ উপজেলা শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক এগিয়েছে। পাঠদানের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়ায় এখানকার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো করছে। স্কুলগুলোর চমৎকার পরিবেশে শিক্ষার্থীরা বেড়ে উঠছে।

সর্বশেষ - ঠাকুরগাঁও

আপনার জন্য নির্বাচিত

চা বানাচ্ছিলেন, ফোন করে বলা হয় ‘আপনি সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন’

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে সুন্দরবন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নব-নির্বাচিতদের শ্রদ্ধা

দিনাজপুরে ব্যাপক কর্মসূচি মধ্যে দিয়ে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

খানসামায় বেলান নদীর খনন কাজ শুরু

ঠাকুরগাঁওয়ে চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ

স্মার্ট ব্রেইন বাংলাদেশ থাইল্যান্ড থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত দিনাজপুরের ৩জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

বিভিন্ন জেলায় গাঁজা সরবরাহকারী  দিনাজপুরে আটক

বিভিন্ন জেলায় গাঁজা সরবরাহকারী দিনাজপুরে আটক

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুর রৌফ চৌধুরী’র মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ফুলবাড়ীতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক নিহত, আহত ৭

রাণীশংকৈলে শ্বশুরবাড়ীতে যুবকের ফাঁস দেওয়া মরদেহ উদ্বার