দিনাজপুরের সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের স্ত্রী খাদিজা মল্লিক শিমু ঘুমের ওষুধ সেবন করে আ’ত্ম’হ’ত্যা’র চেষ্টা করে। পরিবারের লোকজন টের পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে আসে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরী চিকিৎসা প্রদান করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন এখন আশঙ্কা মুক্ত। চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি বর্তমানে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার বিকেলে বাবার বাড়ি দিনাজপুরের হাকিমপুর শহরে অবস্থানকালে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনেরা তাঁকে রাত আটটায় দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।
এ ব্যাপারে দিনাজপুর জিয়া হাট ফাউন্ডেশনের পিআরও শফিকুর রহমান পিন্টু জানান, ডাক্তার তমালের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খাদিজা মল্লিক শিমু বর্তমানে আশঙ্কা মুক্ত।
শিবলী সাদিক দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন শিবলী সাদিক। এরপর থেকেই তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজা মল্লিক হাকিমপুর উপজেলা শহরের সিপি রোড এলাকায় বাবা বাবু মল্লিকের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের সামনে শিবলী সাদিকের মা-সহ নিকটাত্মীয়দের ভিড় করতে দেখা যায়।
আত্মহত্যার চেষ্টার আগে সামাজিক যোগাযোগা মাধ্যম ফেসবুকে খাদিজা মল্লিক তাঁর ‘খাদিজা সীমু’ পেজে একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে লিখেছেন, আমি যথেষ্ট স্ট্রং ছিলাম! আল্লাহর প্রতি আমার অনেক ভরসা রয়েছে! কিন্তু এই মুহূর্তে বিশ্রামের প্রয়োজন। দীর্ঘ ৭বছর ধরে আমার সঙ্গে হওয়া অন্যায় জুলুম আমি আর নিতে পারছি না। এই জীবন এভাবে চলতে পারে না। বিয়ের ২-৩ মাস পর থেকে এসব সহ্য করতে করতে আমি আজ ক্লান্ত, আমি শান্তিতে ঘুমাতে চাই।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে,ঘটনার পরপরই তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
এদিকে, ঘটনার আগে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি স্ট্যাটাস সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ওই পোস্টে তিনি তার মানসিক চাপ ও পারিবারিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


















