রবিবার , ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ২১শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে নেচে-গেয়ে কারাম উৎসবে মেতে উঠলেন আদিবাসীরা

প্রতিবেদক
ঠাকুরাগাঁও সংবাদ
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২ ১১:১১ অপরাহ্ণ

মোঃ মজিবর রহমান শেখ,,
প্রতি বছরের ভাদ্র মাসের একাদশীতে নেচে-গেয়ে কারাম উৎসব পালন করে ঠাকুরগাঁও জেলার আদিবাসীরা। বিপদ থেকে মুক্তি, অতিবন্যা ও খরা থেকে বাঁচতে দেশ ও মানুষের মঙ্গল কামনায় ঐতিহ্যবাহী ও সামাজিক উৎসবটি পালন করা হয়। কারাম বৃক্ষের পূজার মাধ্যমে ঢাকের তালে নিজস্ব সংস্কৃতির রেশে তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরীরা নেচে গেয়ে উৎসবে মেতে উঠেন। সন্ধ্যার প্রথম প্রহরে গান-বাজনার মাধ্যমে কারাম গাছ নিয়ে এসে যথাস্থানে বসান তারা। তারপরে ঢাকের তালে নেচে গেয়ে উৎসবে মেতে উঠে আদিবাসীরা। শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার সালান্দর ইউনিয়নে পাচপীরডাঙ্গা আদিবাসী গ্রামে ঐতিহ্যবাহী কারাম পূজা ও সামাজিক উৎসবটি পালন করা হয়। উৎসবটি দেখার জন্য ওরাওঁ (আদিবাসী) সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ সমবেত হয়।
উৎসবে মাতানো তরুন সোহেল লাখরা বলেন, আমরা প্রতিবছরের এ উৎসব পালন করে থাকি। এ উৎসবে আমরা অনেক আনন্দ করি। আমাদের নিজের বিপদ থেকে মুক্তির জন্য ও দেশের মানুষের মঙ্গল কামনায় আমরা এ কারাম পূজাটি করে থাকি। আমরা মনে করি এ পূজার মাধ্যমে আমাদের সকল বিপদ-আপদ দূর হয়ে যাবে। সুশীলা লাখরা বলেন, এটি আমাদের সবচেয়ে বড় একটি উৎসব। এই উৎসবে আমরা অনেক আনন্দ করে থাকি। আমাদের সকলের বাড়িতে মেহমান আসছে। আমরা অনেক আনন্দ করি। নেচে-গেয়ে কারাম পূজা পালন করে আমরা বিপদ মুক্তি কামনা করি। এর মাধ্যমে আমাদের বিপদ-আপদ দূর হবে আর দেশের মানুষের মঙ্গল হবে।
আদিবাসী কোটা পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ইমরান হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর এ ঐতিহ্যবাহী ও সামাজিক দিবসটি পালন করে এখনকার ওরাও সম্প্রদায়ের আদিবাসীরা। তারা এখানে কারাম গাছের ডালকে তাদের রক্ষাকবজ মনে করে। তারা মনে করে, এ গাছটির মাধ্যমে তারা তাদের জীবন রক্ষা করে। সেজন্য প্রতিবছর তারা এ উৎসবটি পালন করে। সারারাত তারা নানা সংস্কৃতি পালন করে কারাম গাছটি ভাসিয়ে দিবে। কারাম পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ কেরকেটা বলেন, আদি সময় থেকে যারা আমরা ওরাও আদিবাসী তারা এ কারাম পূজাটি পালন করে আসছি। এ কারাম বৃক্ষকে পূজা করার মাধ্যমে আমরা মনে করি আমাদের সকল বিপদ-আপদ দূর হয়ে যাবে। আর এ পূজার মাধ্যমে দেশের মানুষের মঙ্গল হবে। এখানে ২০০৩ সাল থেকে আমরা এ কারাম উৎসবটি পালন করে আসছি। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, এ আয়োজনকে আরো মানসম্মত করে করার। কারন এটি আমাদের বড় একটি ধর্মীয় উৎসব। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে আমরা ভালোভাবে এ উৎসবটি পালন করতে পারব। কারাম পূজা ও সামাজিক উৎসব নিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান বলেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের কারাম পূজাটি ঐতিহ্যবাহী বড় একটি উৎসব। প্রতি বছরে তারা নানা আয়োজনে এ উৎসবটি পালন করে থাকেন। তাদের সকল আয়োজনে জেলা প্রশাসন সাথে ছিল এরপরেও তাদের সকল আয়োজনে আমরা পাশে থাকবো।

সর্বশেষ - জাতীয়

আপনার জন্য নির্বাচিত

হরিপুরে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা

ঠাকুরগাঁওয়ে সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের প্রতিবাদে সমাবেশ

হরিপুরে দেহট্র মধ্যপাড়া জামে মসজিদ উদ্বোধন

বীরগঞ্জে গ্রাম পুলিশ কর্তৃক এনজিও মহিলা মাঠ কর্মকর্তা লাঞ্ছিত, গ্রাম পুলিশ আটক

হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে ভারতীয় প্রতিরক্ষাপ্রধান বিপিন রাওয়াত নিহত

বীরগঞ্জে ৩শত’ অসহায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

শেখ হাসিনা অগ্রপথিক হিসেবে দেশে উন্নয়নের মহাকাব্য রচনা করে যাচ্ছেন -এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপাল

আটোয়ারীতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

পীরগঞ্জ পৌর নির্বাচন: বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জয়নালকে দল থেকে বহিষ্কার

ঠাকুরগাঁওয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করেন — মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা