• শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঘোড়াঘাটে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার নারী ঐক্য পরিষদের আয়োজনে দুঃস্থ নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বøক ও বাটিক কোর্সের উদ্বোধন প্রভাষক উৎপল কুমার সরকারকে সহ সারাদেশে শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় দিনাজপুরে বাশিস নেতৃবৃন্দের ক্ষোভ ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্্েরাহের ১৬৭তম দিবস পালন উপলক্ষে ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবীতে দিনাজপুরে ৪টি সংগঠনের যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসুচী পালন চিরিরবন্দরে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১ ঘোড়াঘাট পৌরসভার বাজেট ঘোষণা অতিবৃষ্টিপাতে দিনাজপুরের নদীর পানিতে নিম্মাঞ্চল প্লাবিত \ আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত দিনাজপুরে কিং ব্রান্ড সিমেন্টের হালখাতা অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীদের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন এলাকার জনপ্রতিনিধিদের স্বাস্থ্য বিভাগের সেবা কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে আটোয়ারীতে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্ণামেন্টের উপজেলা পর্যায়ে ফাইনাল খেলা

হরিপুরের ঐতিহ্যবাহি রাজবাড়িটি অযত্নে অবহেলায় বিলুপ্তির দার প্রান্তে

ঠাকুরগাঁও সংবাদ ডেস্ক : / ২২ বার পঠিত
প্রকাশের সময় | বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২

মিজানুর রহমান হরিপুর প্রতিনিধি: দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর রাজবাড়িটি অযত্নে অবহেলায় বিলুপ্তির পথে। রাজবাড়িটি ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এই প্রাসাদোপম অট্টলিকাটি নির্মিত হয় ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে। এই রাজবাড়ি হরিপুরের জমিদারদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। অনেকের কাছে এটি হরিপুর রাজবাড়ি আবার অনেকের কাছে এটি হরিপুর জমিদার বাড়ি নামেও পরিচিত।

কথিত আছে, মুসলিম শাসনামলে আনুমানিক ১৪০০ খ্রিস্টাব্দে ঘনশ্যাম কুন্ডু নামক একজন ব্যবসায়ী এন্ডি কাপড়ের ব্যবসা করতে আসেন হরিপুরে। তখন মেহেরুন্নেসা নামে এক বিধবা মুসলিম নারী এ অঞ্চলের জমিদার ছিলেন। তার বাড়ি মেদিনীসাগর গ্রামে। জমিদারির খাজনা দিতে হতো তাজপুর পরগনার ফৌজদারের কাছে। একসময় খাজনা অনাদায়ের কারণে মেহেরুন্নেসার জমিদারির কিছু অংশ নিলাম হয়ে গেলে ঘনশ্যাম কুন্ডু তা ক্রয় করে নেন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ঘনশ্যামের বংশধরদের একজন রাঘবেন্দ্র রায় ব্রিটিশ শাসনামলে হরিপুর রাজবাড়ির কাজ শুরু করেন। তবে ওই সময় কাজটি সমাপ্ত করতে পারেননি তিনি। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে এসে রাঘবেন্দ্র রায়ের পুত্র জগেন্দ্র নারায়ণ রায় রাজবাড়ির অসমাপ্ত নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন। ভবনটির পূর্বপাশে একটি শিব মন্দির এবং মন্দিরের সামনে নাট মন্দির রয়েছে। কালের গর্ভে রাজবাড়িটিতে থাকা একটি বিশাল পাঠাগার হারিয়ে গেছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার এই ধারায় আলোকিত জীবনের যে আকাঙ্খা সেদিন মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে গিয়েছিল তা আজও অনেকটাই বহমান রয়েছে এই হরিপুরে। রাজবাড়িটির যে সিংহদরজা ছিল তাও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ১৯০০ সালের দিকে ঘনশ্যামের বংশধররা বিভক্ত হলে হরিপুর রাজবাড়িটিও দুটি আলাদা অংশে বিভক্ত হয়ে যায়। রাঘবেন্দ্র-জগেন্দ্র নারায়ণ রায় যে বাড়িটি তৈরি করেন তা বড় তরফের রাজবাড়ি নামে পরিচিত। এই রাজবাড়ির পশ্চিমদিকে নগেন্দ্র বিহারী রায় চৌধুরি ও গিরিজা বল্লভ রায় চৌধুরি ১৯০৩ সালে আরেকটি রাজবাড়ি নির্মাণ করেন যার নাম ছোট তরফের রাজবাড়ি।

ঐতিহাসিক এই রাজবাড়িটি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে হরিপুর উপজেলায় অবস্থিত। হরিপুর উপজেলার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত রাজবাড়িটি ধীরে ধীরে লোকচক্ষুর অগোচরে হারিয়ে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত যত্ন ও সুষ্ঠু তদারকির অভাবে আমাদের দেশের এই ঐতিহ্য আজ হারানোর পথে।

খুবায়ির নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, ‘আগে ছোট বেলায় রাজ বাড়িটিতে যা কিছু দেখেছি এখন তার অর্ধেক কিছুই নেই। সব ধ্বংস হয়ে গেছে।,

হরিপুর উপজেলার বীরগড় গ্রামের দশম শ্রেণির ছাত্রী তাজনুর আক্তার রাজ বাড়িটি দেখতে এসে বলেন, ‘আমাদের এই রাজবাড়িটি অযত্নে ও অবহেলায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যদি রাজবাড়িটিকে সংরক্ষণ করা যেত তাহলে আমাদের জেলা ও উপজেলার জন্য এটি যুগের পর যুগ দর্শনীয় স্থান হয়ে থাকতো।,

ঠাকুরগাঁও শহর থেকে দেখতে আসা তন্ময় কুমার নামে এক পযর্টক জানান, ‘অনেক আশা করে এসেছিলাম রাজবাড়িটি দেখতে কিন্তু বাড়িটির অবস্থা দেখে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। ঐতিহ্যবাহি দর্শনীয় একটি রাজবাড়ি এভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে যা খুব কষ্টদায়ক। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিনীত অনুরোধ করবো বাড়িটি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার।,

হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ইতিহাস ও ঐতিহ্যরে অংশ হিসেবে হরিপুর জমিদার বাড়িটি আমাদেরই একটি সম্পদ। এই জমিদার বাড়িটির ইতিহাস ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করতে না পারা অত্যান্ত দুঃখজনক। যদি এই সম্পদ গুলোকে সঠিক ব্যবস্থাপনার আওতায় ও সংরক্ষণ করা না যায় তাহলে ভবিষৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের ইতিহাস তুলে ধরা যাবে না বলে ঢাকা মেইলকে বলেন তিনি।,

তিনি আশা করে আরও বলেন, প্রত্নতত্ত অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসনসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ যারা আছেন তারা জমিদার বাড়িটিকে সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এখানকার বিরুপ ও নোংরা পরিবেশের কারণে এখানে এসে অনেক দর্শনার্থী মুখ ফিরিয়ে নেন। কর্তৃপক্ষ এটিকে যদি সুন্দর ব্যবস্থাপনায় আনতে পারে তাহলে আমাদের সীমান্তবর্তী উপজেলা হরিপুরের পযর্টন এলাকাকে দেশবাসীর কাছে প্রতিফলন ঘটানো যাবে। তাই তিনি অনুরোধ করেন, কর্তৃপক্ষকে সজাগ দৃষ্টি দিয়ে যথাযথভাবে বাড়িটিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে এবং বাড়িটির উন্নয়ন ঘটানোর আলোকপাত করার।

হরিপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল করিম বলেন, জমিদার বাড়িটি সংস্কার ও সংরক্ষণের বিষয়ে আমরা প্রত্নতত্ত অধিদপ্তরের ডিজি বরাবর আবেদন করেছি। আশা করছি প্রত্নতত্ত অধিদপ্তর এটি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আর যদি প্রত্নতত্ত অধিদপ্তর জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসনকে এটি সংরক্ষণের জন্য অনুমতি প্রদান করেন তাহলে আমরা সংরক্ষণে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

জানা যায়, হরিপুর রাজবাড়িটি একটি শতবর্ষী স্থাপনা। বাংলাদেশের প্রত্নতাত্তিক স্থাপনার মধ্যে এটি একটি অন্যতম স্থাপনা। জেলার সংরক্ষণযোগ্য পুরাতন স্থাপনার তালিকায় এই রাজবাড়িটির নাম অন্তর্ভূক্ত আছে। জমিদারি পরিচালনার জন্য কাচারী, ধর্মীয় উৎসবের জন্য বিভিন্ন উপাসনালয়, বিনোদনের জন্য নাচমহল, নাগমহল, অন্দরমহল ও অন্ধকূপ ইত্যাদি স্থাপন করেছিলেন যার অধিকাংশই অযত্নে ও অবহেলার কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে এমনকি ২০২১ সালের বর্ষা মৌসুমে বাড়িটির সিঁড়ির একটি অংশ ধ্বসে পরে যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই জাতীয় আরো সংবাদ
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!