শনিবার , ১৫ জুন ২০২৪ | ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মাংসের স্বাদ নিতে ছাট মাংসই ভরসা তাদের

প্রতিবেদক
ঠাকুরাগাঁও সংবাদ
জুন ১৫, ২০২৪ ৭:১২ অপরাহ্ণ

বীরগঞ্জ(দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের জোগান বাড়লে দাম কমে আবার জোগান কমলে পন্যের দাম হু হু করে বাড়ে। আবার এমনও দেখা যায় পন্যের জোগান যখন স্থীর , তখন ক্রেতার চাহিদা বৃদ্ধি পেলে দাম বাড়ে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। আবার কিছু কিছু ভোগ্য পন্য ক্রয় সীমা অতিক্রম করায় বিপাকে পড়েছে নিন্ম আয়ের মানুষ।
বর্তমান বাজরে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা যা ৬ মাস আগে ছিল ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। দেশের উচ্চ ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে ৭০০ থেকে ৭৫০ কেজি দরে কিনে খাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক মসে হলেও নি¤œ আয়ের মানুষের কাছে অনেকটা আকাশ ছোয়া স্বপ্নের মতো। তাদের কাছে গরুর মাংস দুর্লভ ও আভিজাত্যের খাবারে পরিণত হয়েছে। মন-কে একরকম মানিয়েই নিতে হয়েছে এই মাংস আমাদের জন্য নয়। তাই অনেকের কাছে গরুর ছাটকাট উচ্ছিষ্ট হয়েছে এখন গরীবের বন্ধু মাংস।
এই চিত্র দেখা গেছে, দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার হাট – বাজারগুলোতে। সামর্থ্য না থাকায় আর দামে কম হওয়ায় গরুর মাংসের স্বাদ নিতে নিন্ম আয়ের কিছু ক্রেতা ঝুকছে ছাটকাট গরুর মাংস কিনতে।
ছাটকাট মাংস কি, এ বিষয়ে জানতে চাইলে, বীরগঞ্জ পৌর বাজারের মাংস ব্যবসায়ী রবি মিয়া(৩৩) জানান গরুর মাংস বিক্রি হওয়ার পর চর্বি, পর্দা, রগ, মাথার সাইডের হাড় মাংস,নাকের হাড়,ভুড়ির কুস্তাসহ মাংসের উচ্ছিষ্ট একত্র করে এগুলোই ছাট মাংস।
উপজেলার ১১ নং মরিচা ইউনিয়নের গোলাপগঞ্জ হাট, বীরগঞ্জ পৌর হাটসহ আশেপাশের হাট বাজার ঘুরে লক্ষ্য করা যায় এই ছাট মাংসের পশরা সাজিয়ে বসেছে কিছু দোকানি। ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে এসব উচ্ছিষ্ট মাংস পাওয়া যায়।
গোলাপগঞ্জ হাটে ছাট মাংস বিক্রেতা শেখ আব্দুল জব্বার(৫৫) জানান, বীরগঞ্জ পৌর বাজার সহ আশেপাশের এলাকায় বিভিন্ন কসাইয়ের কাছ থেকে ছাটমাংস প্রতিকেজি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা দরে সংগ্রহ করেন। এবং ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে সোমবার ও বৃহস্পতিবার হাটে বিক্রি করেন প্রতিহাটে ২০ থেকে ২৫ কেজি ছাট মাংস বিক্রি হয়। তার এই মাংসগুলো কিনতে আসা অধিকাংস নি¤œ আয়ের গরীব শ্রেনীর মানুষ।
ছাটকাট মাংস ক্রেতা, ভ্যান চালক মোঃ সাফিয়ার (৪৫) নিজের ক্ষোভ আর হতাশা উগড়ে দিয়ে জানান , জায়গা জমি নাই, আমি দিন আনি দিন খাই, কোনদিন ৩০০ কোনদিন ৪০০ টাকা আয় হয়। পরিবারের সদস্য ৫ জন, মেয়ে জামাই বেড়াতে এসেছে, নাতি গরুর মাংস খেতে চেয়েছে কিন্তু আমার গরুর মাংস কিনার সামর্থ্য নেই তাই দামে কম হওয়ায় নাতিকে নিয়ে হাটে এসেছি ছাটকাট মাংস কিনতে।
বীরগঞ্জ পৌর হাটে ছাট মাংস ক্রেতা দিনমজুর নাগরু জানান, কোনদিন ৪০০ আবার কোনদিন ৫০০ টাকা আয় হয় আবার কোনদিন কাজ থাকেনা।সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হয়, কবে গরুর মাংস খেয়েছি মনে নেই। বাচ্চাটা অসুস্থ্য গরুর মাংস খেতে চেয়েছে ৭০০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস কিনার সার্মথ্য নাই তাই কমদামে ছাট মাংস কিনতে এসেছি।
সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে। মধ্যবিত্তের জন্য কোনো জায়গা থাকছে না। নিম্নবিত্তরা আরও নিচে ধাবিত হচ্ছেন। সবকিছু ক্রয়সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে।
বীরগঞ্জ উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টর মোঃ ফরিদ বিন ইসলাম জানান, এই উচ্ছিষ্ট মাংস খাওয়া যাবেনা তা না, তবে না খাওয়াই উত্তম। এই উচ্ছিষ্ট মাংস বিক্রি বন্ধে, বিভিন্ন হাট বাজাওে বেশ কয়েকবার অভিযানও পরিচালিত হয়েছে এবং ছাট মাংস জব্দ করে পুতে দিয়েছি এবং ভোক্তা অধিকার মাধ্যমে কয়েকবার জরিমানা করেছি।

সর্বশেষ - ঠাকুরগাঁও

আপনার জন্য নির্বাচিত

পীরগঞ্জে বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারি সমিতি (বাকাসস)’র কর্মবিরতী পালন

সাংবাদিক নেতা মরহুম ইদ্রীস আলীর নামাজে জানাযা ও দাফন সম্পন্ন

শহিদ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে চিত্রাংকন,আবৃত্তি প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরণ ও অভিভাবক সমাবেশ

তথ্য অধিকার দিবস উদযাপন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচনা সভা

রাণীশংকৈল উপজেলা তাঁতী দলের কমি সভা

ঘুষের টাকাসহ গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ দিনাজপুরের প্রকৌশলী গ্রেফতার

লালমনিরহাটে বিএসএফ’র রাবার বুলেটে বাংলাদেশি নিহত

রাণীশংকৈলের রাণী সাগরে অতিথি পাখি দেখতে পর্যটকদের ভীড়

৬নং আউলিয়াপুর ইউনিয়ন আরাফাতি ভ্রার্তৃ কল্যাণ সমিতির বার্ষিক হাজী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আমদানি রফতানি বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা সমস্যা নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে যৌথ বৈঠক